গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
গলায় সব সময় কিছু আটকে আছে বলে মনে হয়? সকালে ঘুম থেকে উঠেই মনে হয়, গলাটা যেন ভেঙে গিয়েছে কিংবা খুসখুস করছে? অনেকেই এই উপসর্গগুলিকে অ্যালার্জি বা ঠান্ডা লাগার উপসর্গ ভেবে তেমন গুরুত্ব দেন না। অথচ এই উপসর্গগুলির নেপথ্যে থাকতে পারে সাইলেন্ট রিফ্লাক্স বা ল্যারিঙ্গ ফ্যারিঞ্জিয়েল রিফ্লাক্স ডিজ়অর্ডার বা (এলপিআরডি)-র সমস্যা।
বেশির ভাগ মানুষই বদহজম বা অ্যাসিডিটি মানে ভাবেন বুক জ্বালা। কিন্তু এলপিআরডি-তে অনেক সময় বুকে জ্বালাভাব থাকেই না। তাই একে বালে সাইলেন্ট রিফ্লাক্স। এ ক্ষেত্রে পেটে তৈরি হওয়া অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে এসে গলার পিছনে ভয়েসবক্স বা কথা বলার যন্ত্রে অস্বস্তিভাব তৈরি হয়। সামান্য মাত্রার অ্যাসিডও গলায় প্রদাহ তৈরি করে।
কোন কোন উপসর্গ দেখে বুঝবেন?
১) খালি মনে হচ্ছে গলায় খাবার আটকে আছে
২) সকালে উঠেই গলা ভারী হয়ে যাচ্ছে
৩) রাতের বেলা আবার শুকনো কাশি হচ্ছে
৪) একটু বেশি কথা বললেই গলা জ্বালা করছে
৫) মুখের ভিতরটা সারা ক্ষণ টক হয়ে থাকছে
কেন হয়?
১) রাতে দেরি করে খাওয়া
২) খেয়েই শুয়ে পড়া
৩) ঘন ঘন চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস
৪) ঘন ঘন তেল-মশলাদার খাবার খাওয়া, বাইরের খাবার খাওয়া
৫) অত্যধিক মানসিক চাপের কারণে কম ঘুমোনো
৬) অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া
৭) ধূমপান করা
এই রোগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যাপনে বদল আনলে রোগী সেরে উঠতে পারেন। তবে অনেকেই মূল উপসর্গগুলি উপেক্ষা করে দিনের পর দিন কাশির সিরাপ খেয়ে যান, অথচ লাভের লাভ হয় না। তাই এমন উপসর্গ দেখলে কাশির সিরাপ নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জরুরি।