Road Accident

কুয়াশার জেরে কমছে দৃশ্যমানতা, দশ দিনে পথের দুর্ঘটনায় মৃত সাত

কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে শাহবুদ্দিনের মতো অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। বিশেষ করে, রাত থেকে ভোরের মধ্যে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

চন্দন বিশ্বাস
শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৩

—প্রতীকী চিত্র।

শীতের রাতে ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত গতিতে ছুটতে গিয়ে সামনের বাইকচালককে দেখতে পাননি ট্রাকের চালক। কারণ, ঘন কুয়াশায় ২০ ফুট দূরের কিছু দেখার উপায়ও ছিল না! ফলে, ট্রাকচালক সোজা ধাক্কা মারেন বাইকের পিছনে। মৃত্যু হয় কলকাতা পুলিশের এক কর্মী শাহবুদ্দিন বিশ্বাসের। সপ্তাহ তিনেক আগে কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশনের মাধবপুর থানার বাসন্তী হাইওয়েতে ওই দুর্ঘটনায় সহকর্মীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ যে অত্যধিক কুয়াশা, প্রাথমিক তদন্তে বুঝেছিলেন তদন্তকারীরা। পুলিশি জেরায় ধৃত ট্রাকচালক জানিয়েও ছিলেন, কুয়াশার জন্য কিছু দেখতে না পাওয়ার বিষয়টি।

কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় গত কয়েক দিনে শাহবুদ্দিনের মতো অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। বিশেষ করে, রাত থেকে ভোরের মধ্যে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বারো দিন, অর্থাৎ ২৫ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শহরের রাস্তায় দুর্ঘটনায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গভীর রাত থেকে সকালের মধ্যে দুর্ঘটনায় এ শহরে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের আঘাত গুরুতর।

কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশে কর্মরতদের একাংশ দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে জানাচ্ছেন, শীতের শহরে ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতার ফলে বহু সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সামনের গাড়ি বা পথচারীকে নজরে আসে না চালকের। তার ফলেও বহু ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি ঘটছে বলে অভিযোগ।

শহরে শীত এবং কুয়াশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গত কয়েক দিনে ভোরের দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতনতার প্রচারে জোর দেওয়া হয়েছে বলে লালবাজার জানিয়েছে। গত সপ্তাহেই ‘কুয়াশা সতর্কতা’ জারি করে বাইক এবং গাড়িচালকদের সচেতন করতে প্রচার শুরু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সমাজমাধ্যম জুড়ে সচেতনতার প্রচার চালানো হচ্ছে।

বিশেষ করে গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত— যে সময়ে সবচেয়ে বেশি কুয়াশা থাকে, সেই সময়ে চালকদের গাড়ি চালানোর সময়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার কারণে এই সময়ে দৃশ্যমানতা কম থাকায় ধীরে গাড়ি চালানোর, লেন পরিবর্তন না করা, যত্রতত্র পার্কিং না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

লালবাজার সূত্রের খবর, শুধু সচেতনতার প্রচারই নয়, শহরের কয়েকটি রাস্তার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ। ইএম বাইপাস, ডায়মন্ড হারবার রোড, খিদিরপুর রোড, বাসন্তী হাইওয়ে, ময়দান-সহ শহরের যে যে রাস্তায় কুয়াশার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়, সেই এলাকার ট্র্যাফিক গার্ডগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে পথ দুর্ঘটনা এড়াতে রাতের দিকে ওই রাস্তাগুলির নজরদারিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাপ্রবণ মোড়গুলির সঙ্গে ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিত করে রাতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানোর নির্দেশ এবং যাতে যত্রতত্র গাড়ি না রাখা হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে প্রতিটি গার্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘প্রতি বছরই শীতে একাধিক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখা যায়, কুয়াশাই মূল ভিলেন। ফলে কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে ইতিমধ্যেই একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রতিটি ট্র্যাফিক গার্ডকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

দশ দিনে পথের বলি

তারিখ থানা মৃত সময়

৫ জানুয়ারি ঠাকুরপুকুর সন্দীপ দাস রাত ২:৩০

২ জানুয়ারি আলিপুর অজ্ঞাতপরিচয় সকাল ৬:৫০

১ জানুয়ারি বৌবাজার মান্না আলম রাত ১১:২৫

২৯ ডিসেম্বর পশ্চিম বন্দর রমাপদ পুরকাইত রাত ১২:২৫

২৬ ডিসেম্বর হরিদেবপুর ইনামুল ঘোষ রাত ১২:৩০

আরও পড়ুন