বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। ফাইল চিত্র।
আসন্ন বিধানসভা ভোটের আবহে দেশের প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পাচ্ছে এ রাজ্য। আগামী দিন দশেকের মধ্যে হাওড়া থেকে কামাখ্যার মধ্যে ওই ট্রেনের যাত্রার সূচনা করার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। প্রায় দু’বছর ধরে নকশা এবং প্রযুক্তি নিয়ে নানা পরিমার্জন পর্বের মধ্যে দিয়ে গিয়ে অবশেষে ওই ট্রেন পরিষেবা শুরু করবে।
স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে গুয়াহাটি সফরের সময় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে আনবে বলে রেল সূত্রের খবর। এই পথ এখন সুপার ফার্স্ট ট্রেন সরাইঘাট এক্সপ্রেসের সময় লাগে সাড়ে ১৭ ঘণ্টা। স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সমর্থ। ফলে সরাইঘাটের থেকেও কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছবে।
প্রত্যেক কামরায় যাত্রীদের প্রবেশপথে স্বয়ংক্রিয় দরজা ছাড়াও দু’টি কামরার মধ্যে ভেস্টিবিউল অংশে সেন্সর-নির্ভর কাচের দরজা থাকছে। যাত্রী-সুরক্ষায় ওই ট্রেনে ইউরোপীয় মানের অগ্নি নিরোধক প্রযুক্তি ছাড়াও দুর্ঘটনার পরিস্থিতিতে একটি কামরা যাতে অন্য কামরার উপরে উঠে না যায়, সে জন্য বিশেষ প্রযুক্তি থাকছে। সেন্ট্রাল বাফার কাপলিংয়ের পরিবর্তে বিশেষ প্রযুক্তির কাপলিং থাকছে। ট্রেনের বাতানুকূল ব্যবস্থার কোথাও তাপ উৎপন্ন হচ্ছে কিনা, তাও চালকের কেবিন থেকে কেন্দ্রীয় ভাবে ওই ট্রেনে নজর রাখা যাবে। দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষ ঠেকানোর প্রযুক্তি থাকছে। কোচের মধ্যে সিসি ক্যামেরা ছাড়াও কোচের দু’পাশের দৃশ্য নজরে রাখতে ট্রেনের সামনে এবং পিছনে এক জোড়া করে প্ল্যাটফর্ম ক্যামেরা থাকবে।
আপাতত ১৬টি কোচের ওই ট্রেনে ১১টি এসি থ্রি টিয়ার, ৪টি এসি টু টিয়ার এবং ১টি এসি ফার্স্ট ক্লাস কামরা থাকবে। ৮২৩ জন যাত্রী সফর করতে পারবেন। বিমানের ধাঁচে বায়ো ভ্যাকুয়াম টয়লেট রয়েছে। শৌচালয়ের ওয়াশ বেসিন ব্যবহারের সময়ে যাতে জল ছিটিয়ে না আসে, তাই গভীর বেসিন থাকছে। জলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি ওই ট্রেনের স্বাচ্ছন্দ্যগুলি তুলে ধরেন।
অগ্নি নিরোধক লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে ট্রেনে। যাত্রীদের উপরের বার্থে ওঠার জন্য আরামদায়ক সিঁড়ি এবং হাতল থাকছে। প্রত্যেক কামরায় জিপিএস নির্ভর প্রযুক্তিতে আসন্ন স্টেশন, ট্রেনের গতি, গন্তব্যের ঘোষণা যাত্রীরা শুনতে পাবেন। প্রত্যেক বার্থে রিডিং লাইট, জামাকাপড় ঝোলানোর হুক, মোবাইল চার্জার থাকবে।
যাত্রীরা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে টক ব্যাক ব্যবহার করে চালক বা গার্ডের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। কামরায় এলইডি আলো থাকছে। যাত্রীদের গরম-ঠান্ডা পানীয় ও খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা থাকছে। প্রথম শ্রেণির কামরার শৌচাগারে গরম জলের ব্যবস্থা থাকছে।