Bardhaman Town Hall

বর্ধমান টাউন হলের সংস্কার ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

বিজেপির অভিযোগ, ঊনবিংশ শতকে নির্মিত এই ঐতিহাসিক টাউন হল সংস্কার হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত অর্থে। অথচ সেই কাজের কৃতিত্ব নিতে মরিয়া বর্ধমান পুরসভা ও তৃণমূল। এমনকি সংস্কারের নামে মোটা অঙ্কের কাটমানির লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:২১
বর্ধমানের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক টাউন হল।

বর্ধমানের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক টাউন হল। — নিজস্ব চিত্র।

কয়েক দিন আগেই বর্ধমানের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক টাউন হলের সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। হয়েছে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও। উদ্বোধন করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস এবং বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম‍্যান পরেশচন্দ্র সরকার। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই শুরু বিতর্ক। প্রথমে আসন সংখ্যা কমে যাওয়া ও ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। এ বার সংস্কারের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলল বিজেপি। সংস্কারের অর্থ কেন্দ্রের না রাজ্যের এই প্রশ্নকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধীর তরজায় সরগরম বর্ধমান পুরসভা।

Advertisement

বিজেপির অভিযোগ, ঊনবিংশ শতকে নির্মিত এই ঐতিহাসিক টাউন হল সংস্কার হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত অর্থে। অথচ সেই কাজের কৃতিত্ব নিতে মরিয়া বর্ধমান পুরসভা ও তৃণমূল। এমনকি সংস্কারের নামে মোটা অঙ্কের কাটমানির লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।

বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অভিজিৎ তা সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি পোস্ট করে দাবি করেন, “বর্ধমানবাসীর জন্য এটি নরেন্দ্র মোদীর ঐতিহাসিক উপহার।”

অন্য দিকে, বর্ধমান পুরসভা সংস্কারের পর টাউন হলে নতুন উদ্বোধন ফলক বসিয়েছে। সেই ফলকে উদ্বোধক হিসাবে রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের নাম খোদাই করা হয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন বিধায়ক খোকন দাস এবং পৌরপতি পরেশচন্দ্র সরকারের নামও।

জানা গিয়েছে, প্রায় ৩ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা ব্যয় করে সংস্কার করা হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন এই টাউন হল। বিজেপির অভিযোগ, কেন্দ্রের অর্থে সংস্কার হলেও ফলকে কেন্দ্রের কোনও উল্লেখ নেই।

অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পরেশ বলেন, “নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি নিয়ে ওপেন টেণ্ডারের মাধ্যমে কাজ হয়েছে। রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতর থেকে ‘আনটাইয়েড ফান্ড’ হিসাবে টাকা পেয়েছি। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে টাউন হল সংস্কার করা হয়েছে। বিজেপি অভিযোগ করতেই পারে। তদন্ত হোক। আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”

এ দিকে শিক্ষক ও বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “নয়ের দশকে যখন টাউন হল সংস্কার হয়েছিল, তখন বাম বোর্ড এ ভাবে নিজেদের জাহির করেনি। এ বার কেন্দ্রের টাকা খরচ করে তৃণমূল নিজেদের কৃতিত্ব দেখাতে চাইছে।” তিনি এই বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইটালীয় ও ব্রিটিশ স্থাপত্যের যুগলবন্দিতে প্রায় ২৪০০ বর্গফুট জায়গার উপর নির্মিত হয় বর্ধমান টাউন হল। এই ঐতিহাসিক ভবনে এসেছেন মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ইন্দিরা গান্ধীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বেরা। জানা যায়, বর্ধমান রাজ পরিবারের আত্মীয় বংশগোপাল নন্দের স্মৃতিরক্ষার্থে তাঁর উত্তরসূরি গতিপ্রকাশ নন্দ ১৮৯০ সালে বর্ধমান পুরসভাকে এই জমি দান করেন। তখন সেখানে ছিল রাজাদের বাগান। সেই বাগানের জায়গাতেই পরে নির্মিত হয় টাউন হল। এর আগে নব্বইয়ের দশকে শেষবার সংস্কার হয়েছিল এই ঐতিহাসিক ভবন। এ বারের সংস্কার ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরে ফের শিরোনামে বর্ধমান টাউন হল।

Advertisement
আরও পড়ুন