আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
ডেনমার্কের উপরে আমেরিকার আক্রমণ মানে ন্যাটো জোটের সমাপ্তি। এমনটাই সতর্কবার্তা ছিল গ্রিনল্যান্ডের ‘অভিভাবক’ ডেনমার্কের। তার প্রেক্ষিতে নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন, রাশিয়া ও চিন ন্যাটোকে খুব একটা ভয় পায় না। আমেরিকার প্রয়োজনে সামরিক সহযোগিতার এই জোট আদৌ পাশে থাকবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার পরেই তাঁর দাবির পুনরাবৃত্তি, ‘‘আমি একাই ৮টি যুদ্ধ শেষ করেছি।’’ তিনি সে কথা উল্লেখ করে আরও লিখেছেন, ‘‘ন্যাটো সদস্য নরওয়ে বোকার মতো আমাকে নোবেল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফিফা প্রদত্ত শান্তি পুরস্কার পেলেও নোবেল নিয়ে ‘আশাহত’ হওয়ার কথা তিনি ভুলতে পারেননি। বুধবার একই সঙ্গে তাঁর বার্তা ন্যাটো সদস্য দুই দেশ ডেনমার্ক ও নরওয়েকে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দাবি, এত দিনে ইউক্রেন রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হত, যদি না আমেরিকা থাকত। ন্যাটো মধ্যস্থ দেশকে আক্রমণ শানিয়েও ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আমাদের পাশে তারা না থাকলেও আমরা ন্যাটোর পাশে সর্বদা থাকব।’’ তাঁর আরও দাবি, সদস্য দেশগুলির ২ শতাংশ জিডিপি দেওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত ওই দেশগুলি তাঁদের বিলের টাকা পরিশোধ করতে পারছিল না। আমেরিকা ‘বোকা’র মতো সেই খরচ বহন করেছে। তিনি সদস্য দেশগুলিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ৫ শতাংশ জিডিপির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় নিরাপত্তার ‘সাফাই’ দিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের আওয়াজ তুলেছিলেন ট্রাম্প। তবে তাঁর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিল ডেনমার্ক। তার প্রেক্ষিতেই বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
অন্য দিকে, বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ থামিয়েছেন বলে দাবি করে শান্তিতে নোবেল পেতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর সেই আশা পূরণ হয়নি। শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। মারিয়া অবশ্য ট্রাম্পকেই নোবেল উৎসর্গ করেছেন। সম্প্রতি সেই ভেনেজ়ুয়েলায় হানা দিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে আমেরিকা।