Threat to Governor CV Anand Bose

রাজ্যপালকে খুনের হুমকি! ‘উড়িয়ে দেওয়া’র ইমেলবার্তার তোয়াক্কা না করে শুক্রবার নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই রাজপথে হাঁটার সিদ্ধান্ত বোসের

রাজ্যপাল আনন্দ বোস ‘জ়েড প্লাস’ শ্রেণির নিরাপত্তা প্রাপ্ত। তা সত্ত্বেও এই হুমকিবার্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৫৪
রাজ‍্যপাল সিভি আনন্দ বোস ইমেল মারফত হুমকি পাওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়ে আলোচনায় লোকভবনের আধিকারিকেরা।

রাজ‍্যপাল সিভি আনন্দ বোস ইমেল মারফত হুমকি পাওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানো নিয়ে আলোচনায় লোকভবনের আধিকারিকেরা। —নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে খুনের হুমকি দিয়ে ইমেল। বৃহস্পতিবার রাতে ওই হুমকি বার্তাটি লোকভবনের আধিকারিকদের নজরে আসে। তাতে বলা হয়েছে, রাজ্যপাল বোসকে ‘উড়িয়ে’ দেওয়া হবে। বার্তার বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব বিবেচনা করে সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যপালের নিরাপত্তা নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাতেই রাজ্যপালের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক করেছেষ লোকভবনের শীর্ষ আধিকারিক এবং রাজ্যপালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকেরা। বার্তাটি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শুরু হয়েছে তদন্ত‌ও। হুমকি মেলের বিষয়ে রাতেই অবগত করা হয়েছে অমিত শাহের নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও।

Advertisement

লোকভবন সূত্রে খবর, রাজ্যপালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুলিশ ও‌ সিআরপিএফ যৌথ ভাবে কাজ করছে। লোকভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যপালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের নিয়ে মধ্যরাতেই একটি জরুরি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করা হয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

রাজ্যপাল আনন্দ বোস ‘জ়েড প্লাস’ শ্রেণির নিরাপত্তা প্রাপ্ত। তা সত্ত্বেও এই হুমকিবার্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। লোকভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই প্রথম‌ ঘটনা নয়, আগেও একাধিক বার রাজ্যপালকে লক্ষ্য করে হুমকি এসেছে।

অন্য দিকে, হুমকির প্রেক্ষিতে রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুক্রবার তিনি কোনও নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই কলকাতার রাস্তায় হাঁটবেন। রাজ্যপাল ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী যে বাংলার মানুষই তাঁকে রক্ষা করবেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা জোরদার হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য ও কেন্দ্র—দুই প্রশাসনেরই।

ঘটনাচক্রে, যে দিন নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া রাজ্যপাল কলকাতার রাস্তায় হাঁটবেন বলে জানিয়েছেন, সে দিনই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি)-র বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করবেন। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ‍্যাকের অন‍্যতম কর্তা প্রতীক জৈনর অফিস ও বাসভবনে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই ঘটনার প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী প্রতীকের অফিস ও বাড়িতে গিয়ে ইডি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাই শুক্রবার কলকাতা শহরে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপাল পৃথক ভাবে রাস্তায় নামলে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়বে। ইডির হানা ও মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ প্রসঙ্গে রাজ্যের সমালোচনা করে রাজ্যপাল বলেছেন, “এক জন সরকারি কর্মচারীকে তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া অপরাধ। সরকারি কর্মচারীকে হুমকি দেওয়া এবং তাঁকে আইনি পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে বিরত করার চেষ্টা আরও গুরুতর অপরাধ। আর সংবিধানিক কর্তৃপক্ষ যদি সংবিধান ভঙ্গ করেন, তা আরও গুরুতর অপরাধ। এই সমস্ত বিষয়ই সব দিক থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

Advertisement
আরও পড়ুন