এসএসকেএম হাসপাতাল। —ফাইল চিত্র।
মাঝেমধ্যেই জ্ঞান হারাচ্ছিলেন বছর ৬৬-র প্রৌঢ়। পরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রের জটিল সমস্যা ধরা পড়ে। তার জন্য গোটা শরীর-সহ মস্তিষ্কেও ঠিক মতো রক্ত সঞ্চালন হচ্ছিল না। এসএসকেএমের ‘অনন্য’-তে ভর্তি করে ওই প্রৌঢ়ের হৃৎপিণ্ডে তারবিহীন ডুয়াল চেম্বার পেসমেকার বসানো হল। চিকিৎসকদের দাবি, সরকারি স্তরে এই প্রথম এমন পেসমেকার প্রতিস্থাপন হল।
হাসপাতাল সূত্রের খবর, কলকাতার বাসিন্দা অসীম সিংহচৌধুরীর কিছু দিন ধরেই ‘সিনকোপ’ হচ্ছিল। অর্থাৎ, হৃৎপিণ্ডের গোলযোগে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ সাময়িক ভাবে কমে যাওয়ায় তিনি মাঝেমধ্যেই জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। পরিজনেরা জানাচ্ছেন, অসীমকে ভিন্ রাজ্যে নিয়ে গেলেও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচার করা যায়নি। সেখান থেকে ফিরে এসএসকেএমের হৃদ্রোগ বিভাগে দেখান ওই প্রৌঢ়। বিভাগের শিক্ষক-চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল জানাচ্ছেন, হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দের উপরের প্রাচীরে অবস্থিত পেশিকোষের একটি গুচ্ছ বা ‘এসএ-নোড’ থেকে বৈদ্যুতিক সঙ্কেত তৈরি হয়ে সেটি ডান অলিন্দের নীচে অবস্থিত বিশেষ পেশিতন্তু ‘এভি-নোড’ হয়ে অলিন্দ ও নিলয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক সঙ্কেত পাঠিয়ে হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। তার মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন হয়।
সরোজ বলেন, ‘‘ওই রোগীর এসএ-নোড থেকে ঠিক মতো বৈদ্যুতিক সঙ্কেত তৈরি হচ্ছিল না। যার ফলে অনিয়ন্ত্রিত হৃৎস্পন্দনের কারণে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়ে তিনি মাঝেমধ্যে জ্ঞান হারাচ্ছিলেন।’’ অসীমের এই ‘সিক সাইনাস সিনড্রোম’-এর সমস্যা মেটাতে ডুয়াল চেম্বার পেসমেকার লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়। তাঁকে উডবার্ন-২ বা ‘অনন্য’তে ভর্তি করে অস্ত্রোপচার করেন সরোজ ও চিকিৎসক কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বেসরকারি ক্ষেত্রে ওই পেসমেকারের দাম এবং হাসপাতালে থাকা, অস্ত্রোপচার— সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা খরচ হলেও অনন্য-তে ১৭ লক্ষের মতো খরচ হয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।