স্বাস্থ্য ভবন। — ফাইল চিত্র।
অনুমোদিত বা বৈধ ছুটি নেওয়া নেই। অথচ কর্মস্থলে দিনের পর দিন অনুপস্থিত! গত ১১ বছর ধরে কোন কোন চিকিৎসক এবং চিকিৎসক-আধিকারিক এমন করেছেন, এ বার সেটিই খতিয়ে দেখতে পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য ভবন। সাত দিনের মধ্যে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং সরকারি হাসপাতালের থেকে বিস্তারিত তথ্য স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোনও অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ বরদাস্ত করা হবে না। স্বাস্থ্য ভবনের অন্দরের খবর, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই সমস্ত বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করছেন স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তারই প্রেক্ষিতে গত শনিবার স্বাস্থ্য দফতর নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ সার্ভিস, ডেন্টাল সার্ভিস এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক হেল্থ অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে যুক্ত মেডিক্যাল অফিসার, বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল অফিসার, দন্ত-শল্য চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসক-আধিকারিকদের মধ্যে কারা অনুমতি বা অনুমোদন না নিয়ে দিনের পর দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেছেন, সেই তথ্য নির্দিষ্ট ভাবে অনলাইন ফরম্যাটে স্বাস্থ্য ভবনে জমা দিতে হবে। শুধু অনুপস্থিতির হিসেব নয়, তা জানার পরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তারও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি বলেও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে সরকারি চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছেন, শহরের পাশাপাশি জেলা স্তরে অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি কার্যত অলিখিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। সেই বিষয়টিকে শক্ত হাতে ধরে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের অন্যান্য স্তরেও নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার।