Mamata Banerjee & Suvendu Adhikari

ভবানীপুরে ২৬৭টি বুথের মধ্যে ২০৭টিতেই পিছিয়ে মমতা, বেশ কয়েকটিতে ৫০ ভোটও পাননি! সবিস্তার হিসাব দিল কমিশন

ভবানীপুর বিধানসভায় বুথের সংখ্যা ছিল ২৬৭টি। প্রতি বুথে ভোটদাতার সংখ্যা ছিল মোটামুটি ৪০০ থেকে ৭০০। সেখানে এমন অনেক বুথ রয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ১০০ ভোটও পাননি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ২০:১০
Mamata Banerjee & Suvendu Adhikari

৫ বছর পর ‘নন্দীগ্রাম’ হয়েছিল ভবানীপুর। দ্বৈরথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

ভবানীপুর ছিল তাঁর ‘বড়বোন’। ২০২১ সালে ‘মেজোবোন’ নন্দীগ্রামে হেরে সেই ‘বড়বোন’-এর কাছে ফিরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে জেতেন। পাঁচ বছর পর সেই ‘বড়বোন’ই তাঁকে হারিয়েছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এমন অনেক বুথ রয়েছে যেখানে পঞ্চাশেরও কম ভোট পেয়েছেন ‘ভবানীপুরের মেয়ে’। ২২৭ নম্বর বুথে মাত্র ১২টি ভোট পেয়েছেন মমতা।

Advertisement

ভবানীপুর বিধানসভায় বুথের সংখ্যা ছিল ২৬৭টি। প্রতি বুথে ভোটদাতার সংখ্যা ছিল মোটামুটি ৪০০ থেকে ৭০০। সেখানে এমন অনেক বুথ রয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একশো ভোটও পাননি। কমিশনের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ১১ নম্বর বুথে তৃণমূল প্রার্থী পেয়েছিলেন ৭০টি ভোট। ওই বুথে বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ১০৬টি ভোট। আবার ১২ নম্বর বুথে মমতা যেখানে ৫৭০টি ভোট পেয়েছেন, শুভেন্দুর ঝুলিতে পড়েছে মাত্র ৬০টি ভোট।

কিন্তু এমন বেশ কিছু বুথ রয়েছে যেখানে ৫০টিও ভোট পাননি ভবানীপুরের ‘ভূমিকন্যা’! যেমন ১৪ নম্বর বুথ। সেখানে ৪৩টি ভোট পেয়েছেন তিনি। ১৬ নম্বর বুথে ৪২, ২০ নম্বর বুথে ৪১, ২৪ নম্বর বুথে ৪৫, ৭৭ নম্বর বুথে ৪০, ৮৯ নম্বর বুথে ৪১, ১০৫ নম্বর বুথে ৩১টি ভোট পেয়েছেন মমতা।

১৪৯ নম্বর বুথে মমতা পেয়েছেন ৪৪টি ভোট, ১৫৮ নম্বর বুথে ৪৬, ১৭৬ নম্বর বুথে ২৯, ২৪২ নম্বর বুথে ৪০, ২৪৯ নম্বর বুথে ২৮, ২৬৩ নম্বর বুথে ৩০টি ভোট পান।

সব মিলিয়ে মমতা ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ২৮টি বুথে। উল্টো দিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু ৫০ বা তার কম ভোট পেয়েছেন ৩৯টি বুথে। সার্বিক ভাবে শুভেন্দু অধিকারী ২০৭টি বুথে লিড পেয়েছেন। সেই জায়গায় মমতা মাত্র ৬০টি বুথে লিড পান। ওই কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর জয়ের ব্যবধান ১৫ হাজার ১০৫ ভোট।

যা ছিল, যা হল

২০২১ সালে ভবানীপুর উপনির্বাচনে ৮৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন মমতা। সে বার বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। বস্তুত, বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রায় দ্বিগুণ ভোট পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা। ’২১ সালের বিধানসভা ভোটে যে দু’টি ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে ছিল, সেই ৭০ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড উপনির্বাচনে লিড দিয়েছিল মমতাকে। ভবানীপুরের ৭টি ওয়ার্ডেই জয়ী হয়েছিলেন। এ বার ভবানীপুর মমতাকে দিয়েছে ৫৮,৮১২টি ভোট। বিজেপির শুভেন্দু পেয়েছেন ৭৩,৯১৭টি ভোট।

Advertisement
আরও পড়ুন