electrocution in KMC

বর্ষার জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা রুখতে শহরের তিন লক্ষ বাতিস্তম্ভে আর্থিং করার পথে কলকাতা পুরসভা

শহরের প্রায় তিন লক্ষ বাতিস্তম্ভকে ধাপে ধাপে সুরক্ষিত করা হচ্ছে। প্রতিটি আলোকস্তম্ভে যথাযথ আর্থিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কোনও কারণে বিদ্যুৎ লিকেজ হলেও তা সরাসরি মাটিতে নেমে যায় এবং মানুষের সংস্পর্শে এসে দুর্ঘটনা না ঘটে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৬
To prevent deaths in the city caused by electrocution, the Kolkata Municipal Corporation is moving forward with a plan to provide earthing to three lakh lamp posts

তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু রুখতে পদক্ষেপ কলকাতা পুরসভার। ছবি: পিটিআই।

গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শারদোৎসব শুরুর প্রাক্কালে প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল শহর। সেই পরিস্থিতিতে একাধিক জায়গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কলকাতা পুরসভা ও বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থা সিইএসই। এ বার সেই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে কলকাতা পুরসভার প্রশাসন।

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের প্রায় তিন লক্ষ বাতিস্তম্ভকে ধাপে ধাপে সুরক্ষিত করা হচ্ছে। প্রতিটি আলোকস্তম্ভে যথাযথ আর্থিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কোনও কারণে বিদ্যুৎ লিকেজ হলেও তা সরাসরি মাটিতে নেমে যায় এবং মানুষের সংস্পর্শে এসে দুর্ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি, বাতিস্তম্ভের নীচের অংশ থেকে বেশ কিছুটা উপরে পর্যন্ত পিভিসি পাইপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার আলো বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক জানান, পিভিসি পাইপ বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়। ফলে রাস্তা জলমগ্ন থাকলেও এবং কোনও কারণে খুঁটির গায়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ ছড়ালেও বাইরের অংশে বিদ্যুৎ পৌঁছোবে না। এতে পথচলতি মানুষ বা আশপাশের বাসিন্দাদের তড়িদাহত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে বর্ষার সময় বা টানা বৃষ্টিতে জমা জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটি ঘিরে যে আশঙ্কা তৈরি হয়, তা প্রতিরোধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

গত বছরের ঘটনায় পুর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রকাশ্যে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরিতে উদ্যোগী হয় পুরসভা।

কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কলকাতার মতো শহরে এত বিপুল সংখ্যক বাতিস্তম্ভের আর্থিংয়ের বেহাল দশা নিয়ে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক জানান, কলকাতার সব বাতিস্তম্ভের আর্থিং আগে থেকেই রয়েছে। সেই আর্থিং প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করা হচ্ছে, যাতে কোনও ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে শহরে বড়সড় বিপত্তি না ঘটে। পুরসভার শীর্ষ কর্তাদের আশা, এ বছর বর্ষার মরসুম শুরুর আগেই অধিকাংশ বাতিস্তম্ভে আর্থিং ও পিভিসি সুরক্ষা দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হবে। তাই নাগরিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই প্রকল্প দ্রুত শেষ করতে তৎপর কলকাতা পুরসভার প্রশাসন।

Advertisement
আরও পড়ুন