harassment

কিশোরীর অভিযোগে ধৃত দুই যৌন হেনস্থাকারী

কিশোরীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে দু’জনকে গ্রেফতার করল রাজাবাগান থানার পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৮:২৬

— প্রতীকী চিত্র।

কিশোরীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তুলে সেগুলির সাহায্যে ‘ব্ল্যাকমেল’ করে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বাড়িতে জানালে সমাজমাধ্যমে সেই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিশোরীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে দু’জনকে গ্রেফতার করল রাজাবাগান থানার পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই অভিযুক্তের নাম ইমরাজ মোল্লা এবং ইসলামউদ্দিন মণ্ডল। তারা নাদিয়ালের বাসিন্দা। দুই অভিযুক্তকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে দু’জনেরই পুলিশি হেফাজত হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, বছর ষোলোর কিশোরী মঙ্গলবার তার মায়ের সঙ্গে এসে রাজাবাগান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে সে জানায়, তার মায়ের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে ইসলামউদ্দিন মাঝেমধ্যে তাদের বাড়িতে আসত। গত ১৯ মার্চ ইসলামউদ্দিন অন্য অভিযুক্ত ইমরাজকে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসে। সেই সময়ে কিশোরী বাড়িতে একা ছিল। অভিযোগ, সেই সুযোগে ইসলামউদ্দিন এবং ইমরাজ ঘরে ঢুকে কিশোরীকে যৌন হেনস্থা করে। এমনকি, ঘটনার ভিডিয়ো, ছবি মোবাইলে তুলে রাখা হয় বলেও অভিযোগ। হুমকি দেওয়া হয়, বিষয়টি বাড়িতে জানালে ভিডিয়ো ও ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

অভিযুক্তদের হুমকির আতঙ্কে এত দিন বাড়িতে ঘটনাটি জানায়নি বলে দাবি কিশোরীর। অভিযোগ, ওই দিনের পর থেকে লাগাতার যৌন হেনস্থার শিকার হয় সে। ভিডিয়ো দেখিয়েই অভিযুক্তেরা কিশোরীকে ক্রমাগত চাপ দিত। এর পরেই গোটা ঘটনার কথা বাড়িতে জানায় সে।

ঘটনার কথা জানাজানি হতেই কিশোরীর পরিজনেরা রাজাবাগান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়েরের পরেই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছে তাকে। সরকারি আইনজীবীর তরফে ধৃত দু’জনের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়। বিচারক ৮ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন