WBJDF and Aniket Mahato

‘স্পষ্ট কারণ জানাও, নয়তো ক্ষমা চাও’! অনিকেতের বক্তব্যে পাল্টা চিঠি দিল জুনিয়র ডক্টর্‌স ফ্রন্ট, অনড় মাহাতো

অনিকেত জানিয়েছিলেন তিনি ডব্লিউজেডিএফের বোর্ড অফ ট্রাস্টের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। সেই দাবিকে খণ্ডন করে ফ্রন্টের তরফে জানানো হয়, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ওই ট্রাস্টের গঠন এবং তার পদ-নির্ধারণ ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ‘অস্থায়ী’।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৫
WBJDF wrote letter to Aniket Mahato regarding his resignation

অনিকেত মাহাতো। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্‌স ফ্রন্টের (ডব্লিউজেডিএফ) বোর্ড অফ ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো। একই সঙ্গে সেই চিঠিতে তাঁর সহযোদ্ধা দেবাশিস হালদার এবং আসফাকুল্লা নাইয়ার কাজে যোগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে পাল্টা চিঠি দিল পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্‌স ফ্রন্ট। তাদের দাবি, নিজের বক্তব্যের স্পষ্ট কারণ দর্শাতে হবে অনিকেতকে। তা না-হলে ক্ষমা চাইতে হবে। যদিও ডব্লিউজেডিএফ-কে জবাব দেওয়া ‘সমীচীন’ মনে করছেন না অনিকেত।

Advertisement

অনিকেত জানিয়েছিলেন তিনি ডব্লিউজেডিএফের বোর্ড অফ ট্রাস্টের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। সেই দাবিকে খণ্ডন করে ফ্রন্টের তরফে জানানো হয়, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ওই ট্রাস্টের গঠন এবং তার পদ-নির্ধারণ ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ‘অস্থায়ী’। তাই ইস্তফাপত্রে ট্রাস্ট এবং সভাপতি পদের উল্লেখ করাকে ‘অগণতান্ত্রিক ও অকার্যকর অভিধানগুলিকে অকারণ মান্যতা দেওয়ার চেষ্টা বলে’ মনে করছে ফ্রন্ট। তারা চিঠিতে এ-ও জানিয়েছে, তারা এই চিঠি লিখছে তাদের সহযোদ্ধাকে (অনিকেত), কোনও ‘অস্থায়ী’ বডির ‘অগণতান্ত্রিক ভাবে’ নির্ধারিত মূল্যহীন কোনও পদাধিকারীকে নয়! অনিকেতের সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী, ব্যক্তিস্বার্থসর্বস্ব এবং অবিবেচক’ বলে উল্লেখ করেছে ফ্রন্ট।

অনিকেতকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অগণতান্ত্রিক ট্রাস্ট ব়ডিকে ভেঙে গণতান্ত্রিক ডব্লিউজেডিএফ গঠনের দিকে প্রাথমিক পদক্ষেপ করছিলাম। প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আপনি (অনিকেত)। প্রায় সব ক্ষেত্রেই সম্মত ছিলেন। তা হলে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগোনোর সময় কী এমন হল যে আলোচনার ঊর্দ্ধে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থে আপনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন?’’

আরজি কর পর্বের পর অনিকেত-সহ আন্দোলনের প্রথম সারির কয়েক জন জুনিয়র ডাক্তার পোস্টিং নিয়ে সমস্যায় পড়েন। অভিযোগ, প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ করে সরকার তাঁদের কাঙ্ক্ষিত এবং ন্যায্য জায়গার পরিবর্তে দূরে পোস্টিং দিয়েছিল। এই নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটেন অনিকেতরা। তিনি ছাড়াও সমস্যায় পড়েছিলেন দেবাশিস এবং আসফাকুল্লা। পরে ফ্রন্টের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে দেবাশিস এবং আসফাকুল্লা পরিবর্তিত পোস্টিংয়েই কাজে যোগ দেন। কিন্তু অনিকেত লড়াই চালিয়ে যান। কলকাতা হাই কোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ও তাঁর পক্ষে গিয়েছে। আদালত আরজি কর হাসপাতালেই অনিকেতের পোস্টিংয়ের নির্দেশ দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, দু’সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি বলে অনিকেতের অভিযোগ।

ইস্তফার চিঠিতেও অনিকেত সে কথা উল্লেখ করেছেন। মাথা নত না-করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে ফ্রন্ট চিঠিতে দাবি করেছে, অনিকেত তাঁর সবৈব মিথ্যা কথা বলেছেন। দেবাশিস এবং আসফাকুল্লা কেন কাজে যোগ দিয়েছিলেন, তা অজানা নয় অনিকেতের। ‘বিপ্লবী ডাক্তারেরা গ্রামে যেতে চান না’— এই তত্ত্ব ভাঙতে চাওয়ার জন্যই পদক্ষেপ। অনিকেত জেনেশুনে এ ধরনের মন্তব্য করায় ‘হতবাক’ ফ্রন্ট। তাদের দাবি এই কথাগুলির স্পষ্ট কারণ দর্শাতে হবে অনিকেতকে। নচেৎ তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। আলোচনার পথ খোলা আছে বলেও জানানো হয় ফ্রন্টের তরফে।

এই চিঠির পরেও নিজের অবস্থানে অনড় অনিকেত। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান ডব্লিউজেডিএফ নেতৃত্ব আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে মেল করে এবং সংবাদমাধ্যমে এই চিঠি পাঠিয়েছে। তাতে যে ভাষা এবং অভিযোগ জানানো হয়েছে তার উত্তর দেওয়া আমি সমীচীন মনে করছি না। আমার সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে এই ভাষা আমি প্রত্যাশা করিনি।’’

Advertisement
আরও পড়ুন