Abhishek Banerjee and Kunal Ghosh

মমতার বাড়িতে বৈঠকের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা অভিষেক-কুণালের! তর্কাতর্কি সামাল দিতে দলনেত্রী বললেন, ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল

শনিবার সন্ধ্যার পর মমতার বাড়িতে বৈঠক বসেছিল। কুণাল ঘোষ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ২২:১০
(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ।

(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ। —ফাইল চিত্র।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তৃণমূলের বৈঠকে বিতণ্ডা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কুণাল ঘোষের। দু’জনের তর্কাতর্কি সামাল দিতে মাঠে নামতে হল মমতাকে। এমনকি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এগিয়ে আসেন কুণাল এবং অভিষেকের তর্ক সামাল দিতে। সূত্রের খবর, তার পরে তিন জনের মাথায় হাত রেখে মমতা বলেন— ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, এখন শান্ত থাকতে হবে।

Advertisement

শনিবার সন্ধ্যার পর মমতার বাড়িতে বৈঠক বসেছিল। কুণাল, অভিষেক, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হতে হতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ ওঠে। সুদীপ যেহেতু এখন শিবির বদল করেছেন, তাই উত্তর কলকাতার তৃণমূলের জেলা সভাপতি পদে নিয়োগ করা হয় কুণালকে। সেই সময় কুণাল আরও তড়িঘড়ি রদবদলের দাবি জানান। সূত্রের খবর, কুণালের এই দাবির প্রেক্ষিতে অভিষেক বলেন— সব দেখা যাবে, পরে হবে। পাল্টা কুণালও তখন বলেন— অভিষেক তুমি আর লেবু কচলে তেতো কোরো না।

এর পরে বৈঠক শেষ হলে আবার শুরু হয় দু’জনের বিতণ্ডা। কালীঘাটের বৈঠকে কুণাল-অভিষেক তর্কাতর্কির প্রসঙ্গে তৃণমূলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, “কুণালকে দেখেই অভিষেক বলে ওঠেন, তুমি কি ঝগড়া করবে বলেই এসেছিলে? তখন কুণাল বলেন, ঝগড়া আমি করিনি। যেটা বলার বলেছি। এর পরেই হঠাৎ অভিষেক চলে যান সুমিত রায়ের প্রসঙ্গে। কুণালের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, তুমি আমার আর সুমিতের বিরুদ্ধে স্টেটমেন্ট দিয়েছো। তখন কুণাল বলেন, আমি তোমার বিরুদ্ধে কোনও স্টেটমেন্ট দিইনি। তুমি সুমিতকে কেন নিজের কাঁধে নিচ্ছো!”

ওই প্রবীণ নেতা আরও বলেন, “অভিষেকের কথা শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছিলাম। কুণাল অভিষেককে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংবাদমাধ্যম তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে গেলে তিনি সুমিত রায় সম্পর্কে তাঁর যা সমালোচনা, তা করলেও ভোর সাড়ে তিনটের সময়ে অভিষেকের বাড়িতে পুলিশি হানা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।”

সূত্রের খবর, যখন এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হচ্ছে অভিষেক এবং কুণালের সামনে এগিয়ে আসেন কল্যাণ। চেষ্টা করেন থামানোর। কিন্তু তাঁরা থামেননি। এর পরে পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামেন দলনেত্রী স্বয়ং। ওই সূত্রের দাবি, অভিষেক, কুণাল এবং কল্যাণের মাথায় হাত রেখে মমতা তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল। দলের এই সময়ে সবাইকে মাথা ঠান্ডা করে কাজ করতে হবে। সবাইকে এক হয়ে থাকতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন