— প্রতীকী চিত্র।
জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি জমি দখল এবং সেই জমিতে অবৈধ নির্মাণের ঘটনায় ইডি-র দায়ের করা মামলায় আলিপুর আদালতের এক আইনজীবীর নাম উঠে এসেছে বলে দাবি ইডি-র তদন্তকারীদের। ওই আইনজীবী কলকাতা পুলিশের একাধিক কর্তা এবং কয়েক জন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি তদন্তকারীদের। তাঁর মাধ্যমেই জমির জাল নথি তৈরি ও হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে ইডি সূত্রের দাবি।
সম্প্রতি এই মামলায় খুন ও সমাজবিরোধী কাজকর্মে অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু এবং নিউ আলিপুরের এক নির্মাণ ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে তিনশোরও বেশি জমির দলিল, চুক্তিপত্র, সোনার গয়না, নগদ প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছিল ইডি। সেই মামলায় কলকাতা পুলিশের এক উপ-নগরপাল এবং রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক কথা কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার-সহ একাধিক মন্ত্রীর নাম উঠে এসেছে। তবে, সোনা পাপ্পু পলাতক বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।প্রসঙ্গত, দেবাশিসকে দু’দফায় দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তল্লাশি অভিযান চলাকালীন নিউ আলিপুরের ওই নির্মাণ ব্যবসায়ীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর বয়ান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই মামলায় জড়িত আলিপুরের ওই আইনজীবীকেও সম্প্রতি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রের খবর।
তদন্তকারীদের দাবি, জালিয়াতি করে জমির নথিপত্র তৈরির ক্ষেত্রে ওই আইনজীবীর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। কয়েক বছর আগে একটি বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা সংক্রান্ত মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা ওই আইনজীবীকে বেশ কয়েক বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন ভুবনেশ্বরে। সিবিআইয়ের দাবি, বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থাটির সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে। ওই সংস্থার জমি দখল করে সেখানে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করা জমিতে রাজনীতির কয়েক জন প্রভাবশালী এবং পুলিশকর্তার কালো টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল। নিউ আলিপুরের ওই নির্মাণ ব্যবসায়ীর অধীনে এখনও ১৫০টির বেশি দখল করা জমি রয়েছে এবং সেই সব জমিতে অবৈধ নির্মাণের কাজ চলছে বলেও দাবি করেছেন তদন্তকারীরা।
জমি দখলের কাজ এবং সেই সব জমিতে অবৈধ নির্মাণের জন্য ইমারতি দ্রব্য সরবরাহ করত সোনা পাপ্পু ও তার ঘনিষ্ঠ শাগরেদরা।তদন্তকারীদের কথায়, ‘‘দক্ষিণ শহরতলি এলাকায় অনেক নতুন বসতি গড়ে উঠছে। সেখানে জমির দাম রকেটের গতিতে বেড়ে চলেছে। সেখানে সরকারি-বেসরকারি একের পর এক জমি দখল করে চলছে অবৈধ নির্মাণ। সেই সব নির্মাণ ব্যবসাতেই নেতা, মন্ত্রী এবং এক শ্রেণির পুলিশকর্তাদের কালো টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।তদন্তকারীদের মতে, এই ভাবে কালো টাকা সাদা করার চেষ্টা হয়েছিল।
ইডি সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা উপ-নগরপাল পদমর্যাদার এক পুলিশকর্তা এবং ওই আইনজীবী অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এঁরা একসঙ্গে বহু জমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণ করেছেন। মূলত হরিদেবপুর, কসবা এবং বন্দর এলাকায় ওই সব জমি দখল করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি যাচাই করা হচ্ছে।