রামপুরহাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
অভিষেক বলেন, ‘‘যে যেখানে ইচ্ছা যেতে পারেন (শুভেন্দু প্রসঙ্গে)। আমায় ষড়যন্ত্র করে আটকাতে চাইলে তা চুরমার করব। ১২টা পর্যন্ত আজ অপেক্ষা করি। তার পর বুঝে গিয়েছি। তার পরে ঝাড়খণ্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করি।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘সুনালীর স্বামী দানিশের মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্রীয় সরকার সময় চেয়ে নিয়েছে। ওদের কাছে সদুত্তর নেই। সম্ভবত ১৯ তারিখ শুনানি। আমরা যা করার করব। বিজেপি মানুষের সঙ্গে মেশেনি। এরা দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলন করে ক্ষমতায় এসেছে। ’’
অভিষেক বলেন, ‘‘আমি প্রোটোকল মেনে ভিতরে গিয়েছি। টুপি, গাউন পরে। সুনালী, ওঁর মা আমায় অনুরোধ করেন, বাচ্চার নাম রাখার। যে ভাবে ওকে পর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়, তাই ওর নাম রেখেছি ‘আপন’। কয়েক মাস পরে আবার ওর বাড়ি যাব।’’
রামপুরহাটের হাসপাতালে সুনালীকে দেখে বেরিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘সুনালীর থেকে শুনেছি, কী ভাবে ওদের হ্যারাস করা হয়েছে। একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে। শুধু শারীরিক অত্যাচার নয়, মানসিক অত্যাচারও। রাতের পর রাত জঙ্গলে কাটিয়েছে। এই অবস্থায় নদী পেরিয়েছে। সবই বলেছে। ঢাকায় পৌঁছোয়। পুলিশ গ্রেফতার করে। সেখানে জেলে মাসের পর মাস কাটিয়েছে। তাঁর স্বামী দানিশ এখনও বাংলাদেশে। যে কষ্টের মধ্যে কাটিয়েছে, তা কষ্টের। বাচ্চাটাও অত্যাচার সয়েছে। এর মূল্য বিজেপিকে দিতে হবে। একটাই দোষ, বাংলায় কথা বলে। তাঁর বাবা-মায়ের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। তাঁকে কী ভাবে পাঠায় বাংলাদেশে?’’
সুনালী বিবির সদ্যোজাত সন্তানের নাম রাখলেন অভিষেক। নাম দিলেন ‘আপন’।
অভিষেক বলেন, ‘‘এসআইআর করে যাঁরা বাংলার মানুষের নাম বাদ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হবে। তৃণমূলের সৈনিকেরা পৌঁছোয় রাতবিরেতে। বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যায় না।’’ আবার আসবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘আড়াইশো আসনে জেতাতে হবে তৃণমূলকে। মা তারাকে বলব। যে দল ৭০টি আসন নিয়ে গরিব ছেলেকে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করছে বলে মারধর করেছে, এরা ক্ষমতায় এলে বাংলার কী অবস্থা করবে, ভেবে দেখুন। গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে কে ডিমের ঝোল খাবে, কে এগরোল খাবে, কে মাছের ঝোল খাবে, ঠিক করছে বিজেপির দিল্লির নেতারা। এদের শূন্য করতে হবে।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘যাঁরা এসআইআরের নোটিস পাচ্ছেন, কোনও সমস্যা হলে আমাদের ক্যাম্প, কর্মীরা রয়েছে, যোগাযোগ করবেন। আমরা ব্যবস্থা করব, যাতে কারও নাম কাটা না যায়। আমি দিল্লি গিয়েছিলাম। প্রশ্ন করেছিলাম, সদুত্তর দিতে পারেনি। কারও নাম বাদ গেলে ফর্ম ৬ পূরণ করে নাম তুলতে পারবেন। এসআইআরকে কেন্দ্র করে ৬০-৬২ জন মারা গিয়েছেন। দয়া করে কেউ চিন্তা করবেন না। আগে জানতে এদের বাঁচাতে পারতাম। সুনালীর বাবা-মার নাম রয়েছে ভোটার তালিকায়। তাও তাঁর নাম বাদ গিয়েছে। কারও নাম বাদ যাবে না।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘২০২১ সালে বলেছি বাংলা নিজের মেয়েকে চায়। ২০২৪ সালে বলেছিলাম জনতার গর্জন বাংলাবিরোধীদের বর্জন। কেন বিজেপি-কে বর্জন, মানুষ হাড়ে হাড়ে বুঝছে। প্রধানমন্ত্রী এসে বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে বলছে, বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই! আপনাদের পাল্টা বলতে হবে, মানব না হার, আমার মমতার সরকার। বাঁচতে চাই, বিজেপি বাই।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘নানুর গণহত্যা ভুলে গেছেন? সেই সিপিএমের হার্মাদগুলি জার্সি পাল্টে বিজেপির দালাল হয়ে বীরভূমের মাটিতে অশান্ত করতে চায়। তৃণমূলের একজন সৈনিক বেঁচে থাকলে তা করতে দেবে না।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘এই মাটিতে একাধিক শক্তিপীঠ রয়েছে। শান্তিনিকেতনে গিয়ে কবিগুরুর নাম ফলক থেকে বাদ দিয়েছে। বাংলার মানুষকে শুধু ভাতে মারতে চায় না। তাঁর ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বীরভূমে ৩,৬০০ বুথ থেকে বিজেপিকে ভোকাট্টা করতে হবে। বীরভূমে ১১ লক্ষ মহিলাকে লক্ষ্মীর ভান্ডার দিয়েছে। এতে মোদী সরকারের অবদান নেই। বিজেপি নেতা যদি বলতে পারে এতে মোদী সরকারের অবদান রয়েছে, আমি রাজনীতি করব না।’’
অভিষেকের কথায়, ‘‘বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলছেন, বাংলায় কেউ কথা বললে তাঁকে জেলে ঢুকিয়ে দাও। আমাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা! ওরা রবীন্দ্রনাথের জন্মস্থান জানে না। চার দিন আগে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, রবীন্দ্রনাথ সান্যাল। বাংলার মানুষ জবাব দেবে না? বিবেকানন্দকে অজ্ঞ বামপন্থী প্রোডাক্ট বলে। বাংলার মানুষ, বীরভূমের মানুষ জবাব দেবেন না?’’
অভিষেক বলেন, ‘‘বাংলার মেয়ে সুনালী খাতুন। গায়ের জোরে তাঁকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে বাংলাদেশের জেলে পাঠানো হয়। হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট থেকে অর্ডার করে তাঁকে তৃণমূলের সৈনিকেরা লড়াই করে নিয়ে এসেছে। গতকাল ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছে। আমি তাঁকে দেখতে যাব। ’’
অভিষেক বলেন, ‘‘ওরা চায় বাংলার মানুষকে ভাতে মারতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে লক্ষ্মীর ভান্ডার, দুয়ারে রেশন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, কন্যাশ্রী আটকায়নি। কৃষকবন্ধুও আটকায়নি। আপনারা চান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল মাথা নত করুন, চান? আজ এসআইআর করে যাঁদের উপর অত্যাচার করছে, আপনারা জবাব দেবেন কি দেবেন না? ’’
অভিষেক বলেন, ‘‘বাংলায় ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র। ২ লক্ষ কোটি টাকা পেলে এক-একটি কেন্দ্রে আরও ৬৮০ কোটি টাকার কাজ রাজ্য সরকার করতে পারবে। তার মানে বাংলায় ৮০ হাজার বুথ রয়েছে। একটি বুথে আড়াই কোটি টাকার কাজ রাজ্য সরকার করতে পারবে যদি এই টাকা ফেরত আনা যায়। আমরা কারও কাছে মাথা নত করি না। এদের দয়া-দাক্ষিণ্যে বেঁচে নেই। কবে বিজেপি চাকা দেবে, বাংলার মানুষ টাকা পাবে, সেই রাজনীতি আমরা করি না।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘যাঁরা এসআইআরের নামে বাংলাকে অপমান করেছেন, আগামী নির্বাচনে তাঁদের যোগ্য জবাব দেওয়ার লড়াই। আগামী নির্বাচন তৃণমূলকে জেতানোর লড়াই নয়। এরা বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। বিজেপির নেতা-কর্মীর কানে গেলে বলছি, তথ্য-পরিসংখ্যানের নিরিখে লড়াই হবে, আমাদের সরকার ১৫ বছরে কী কাজ করেছে। ১১ বছরে তোমাদের সরকার কী করেছে। ভোকাট্টা করে মাঠের বাইরে পাঠাতে না পারলে তৃণমূলের হয়ে মাঠে নামব না।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘যাঁরা ১১ বছর ক্ষমতায়, বিজেপি-কে বলুন, যখন আগামী দিনে ভোট চাইতে যাবে, রিপোর্ট কার্ড চাইবেন। মমতার সরকার ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড উন্নয়নের পাঁচালি করে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। বিজেপি-র রিপোর্ট কার্ড আপনারা পাননি। মায়েরা বলুন, বিজেপির রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসা উচিত কি না। মমতা সরকার যদি উন্নয়নের হিসাব দেয়, বিজেপি কেন দেবে না। ওদের খালি বড় বড় ভাষণ, ভাঁওতা। আমরা কাজ করে দেখিয়েছি।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতলে বাংলার ১০ কোটি মানুষ শান্তিতে থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ থাকবে। তৃণমূল জিতলে দু’মুঠো ভাত আর বিরোধীরা কুপোকাত। বিজেপিত জিতলে ধর্মে ধর্মে আঘাত আর বিভাজন, অন্তর্ঘাত। ’’
অভিষেক বলেন, ‘‘যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের বাংলাদেশি বলে গত ৬ বছর ধরে অত্যাচার চালিয়ে গিয়েছে। বিজেপির সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তাদের নিযুক্ত করা রাজ্যপাল, রাষ্ট্রপতি, সেই বিজেপির সাংসদ বলছে বাংলাদেশী। সাংসদ অনন্ত মহারাজ বলছেন বাংলাদেশি। এই লড়াই বাংলার ঐতিহ্য রক্ষার লড়াই।’’
অভিষেকের কথায়, ‘‘বিজেপির যে নেতারা রয়েছেন, বিশেষত বীরভূমে, ধ্রুব সাহা। চিটফান্ড কেসে অভিযুক্ত। সুনীল সোরেন। এসটি সেলের সভাপতি। তিনি এক মহিলাকে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেন। আগের জেলা সভাপতি সন্ন্যাসী চরণ মণ্ডলের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ বিজেপির কর্মীরা তুলেছেন। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে বিজেপি কর্মীরা সর্বভারতীয় সভাপতিকে বলছে, তিনি সিউড়িতে প্রচুর সম্পত্তি করেছেন। রাজারহাটে ফ্ল্যাট করেছেন।’’
অভিষেক বলেন, ‘‘কাল দেখছি, বাংলা সিনেমার উজ্জ্বল নক্ষত্র, তাঁকে হিয়ারিং নোটিস পাঠিয়েছে। মহম্মদ শামি, যে বিশ্বকাপ খেলে বিশ্বকাপ জিতেছে, তাকেও এসআইআরের নোটিস পাঠিয়েছে। নোটিস পাঠিয়ে আনম্যাপ করার চক্রান্ত। যারা বাংলার মানুষকে আনম্যাপ করতে চায়, তাদের বাংলা থেকে আনম্যাপ করে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে হবে।’’