—প্রতীকী চিত্র।
সংসদে আসতে চলেছে নতুন ‘মোটর ভেহিক্যাল সংশোধনী বিল’। আগামী ২৮ জানুয়ারি শুরু হতে চলা সংসদের বাজেট অধিবেশনেই এই বিলটি পাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে খবর। প্রস্তাবিত এই সংশোধনীতে একদিকে যেমন সাধারণ চালকদের জন্য কিছু স্বস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তেমনই ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের জন্য থাকছে কঠোর শাস্তির বিধান। বর্তমানে ৪০ বছরের বেশি বয়স হলেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে বা পুনর্নবীকরণ করতে মেডিক্যাল ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন আইনে সেই বয়ঃসীমা বাড়িয়ে ৬০ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ৬০ বছরের নীচে কোনও চালককে আর প্রতি বছর লাইসেন্স রিনিউ করার সময় আলাদা করে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিতে হবে না। এর ফলে সাধারণ চালকদের আর অতিরিক্ত খরচ ও ঝক্কির মুখে পড়তে হবে না বলে মনে করছে পরিবহণ দফতর।
নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে তা যে কোনও ধরনের গাড়ির চালকের পক্ষে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অনলাইন ক্যাব অপারেটর গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘একজন শারীরিক ভাবে অসুস্থ লোক কখনওই গাড়ি চালাতে পারে না। তবে চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ফিট থাকার মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেওয়ার যে নিয়ম লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের ক্ষেত্রে রয়েছে, তা সঠিক নয় বলেই আমরা মনে করতাম। এখন যদি কেন্দ্রীয় সরকার নতুন কোনও আইনে তা ষাট বছর পর্যন্ত করতে চায়, তবে তো ভালই হবে। কারণ, একটি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট পেতে যে কোনও ধরনের গাড়িচালককে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হত। নতুন নিয়ম চালু হয়ে গেলে সেই খরচ আর থাকবে না।’’
রাজ্য পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের এই বাধ্যবাধকতা থেকে রাজ্য সরকারের আর্থিক ভাবে কোনও লাভ হত না। বরং সাধারণ মানুষকে বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হত। নতুন নিয়ম চালু হলে সেই বাড়তি খরচ ও হয়রানি কমবে। ফলে চালক ও প্রশাসন— উভয়েরই সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই স্বস্তির পাশাপাশি থাকছে কঠোর নিয়মও। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত হোক বা অসাবধানতাবশত, লাগাতার ট্রাফিক আইন ভেঙে একাধিক বার ‘চালান’ কাটা হলে সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। আরও কড়া ধারা হিসাবে বলা হয়েছে, গত তিন বছরের মধ্যে যদি একবারও কোনও চালকের লাইসেন্স বাতিল হয়ে থাকে, তবে ভবিষ্যতে আর সেই লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এ ছাড়াও ট্রাফিক আইন ভেঙে ধার্য জরিমানা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না মেটালে সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাতিল বা স্থগিত করার বিধানও থাকছে। অর্থাৎ, যত ক্ষণ না জরিমানা মেটানো হচ্ছে, তত ক্ষণ ওই গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না। পরিবহণ দফতরের কর্তাদের মতে, এই সংশোধনী কার্যকর হলে যেমন আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে, তেমনই সড়ক নিরাপত্তাও অনেকটা জোরদার হবে। শিথিলতা ও কড়াকড়ির সমন্বয়ে নতুন মোটর ভেহিক্যাল আইনের মাধ্যমে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরানোই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।