Mass Communication drive

খেলায় পুলিশের জনসংযোগ, মঞ্চে হাজির শাসক নেতারা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে অতি স্পর্শকাতর এলাকায় জেলা পুলিশের এই বিশেষ জনসংযোগ তৃণমূলের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৫৯
খেজুরিতে পুলিশের ক্রিকেট খেলা।

খেজুরিতে পুলিশের ক্রিকেট খেলা। নিজস্ব চিত্র ।

‘খেলা হবে’— ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতির ময়দানে এই স্লোগান শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। আসছে আরেক বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে জেলার স্পর্শকাতর এলাকায় জনসংযোগে খেলাই হাতিয়ার করেছে পুলিশ। ‘চলো লড়ি, কিন্তু খেলার মাঠে’— স্লোগানে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করছে তারা। দিন কয়েক আগে স্পর্শকাতর এলাকা ময়নার পরে রবিবার আরেক স্পর্শকাতর এলাকা খেজুরিতে পুলিশের খেলা তথা জনসংযোগ চলেছে।

রবিবার খেজুরি-২ ব্লকের সাতখণ্ড সাহেবনগর বেসিক স্কুলের মাঠে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করে জেলা পুলিশ। মাঠে নামেন জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে, থেকে কাঁথির এসডিপিও দিবাকর দাস-সহ অন্য পুলিশের আধিকারিকরা। তাঁদের দল ‘লা পুলিশ একাদশ’ গ্রামবাসীদের হারিয়ে দেয় এ দিন। খেলার পাশাপাশি, ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক এবং ব্যাগ, দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ এবং বিভিন্ন ক্লাবকে ক্রীড়া সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে অতি স্পর্শকাতর এলাকায় জেলা পুলিশের এই বিশেষ জনসংযোগ তৃণমূলের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। জেলা পুলিশের তরফে দাবি করা হচ্ছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রবণ এলাকায় শান্তি রাখতে এই খেলার মাধ্যমে জনসংযোগ করা হচ্ছে। সে দিক থেকে দেখলে ময়না এবং খেজুরি বিধানসভা এলাকা অতি স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বৃদ্ধি করা। আমরা কোন রাজনৈতিক দলের নেতাকে আমন্ত্রণ করিনি।’’

অবশ্য রাজনৈতিক মহল মনে করাচ্ছে, এই দু’টি বিধানসভাতেই বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন। যদিও এ দিনের কর্মসূচিতে তৃণমূলের ব্লক স্তরের নেতারা মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডল, তৃণমূলের কোর কমিটির নেতা পার্থসারথি দাস, সমুদ্ভব দাস। খেজুরিতে মাঠের পাশেই বাড়ি এলাকার বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিকের। তবে মাঠে তাঁকে দেখা যায়নি। আবার, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ময়নার খেলা-কর্মসূচিতেও শাসক-নেতাদের দেখা গিয়েছিল। ছিলেন সে সময়ের এলাকার দাপুটে বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডল। তিনিও খেলার কিছু দিন পরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাই পুলিশের এই জনসংযোগের মাধ্যমে শাসকদল নিজেদের ওই এলাকায় নিজেদের জনসংযোগ সারতে চাইছে বলে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা।

খেজুরির বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক বলছেন, ‘‘জনসংযোগ কর্মসূচি বলা হচ্ছে। অথচ আমাদের কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। শুনেছি শুধু তৃণমূলের নেতারাই গিয়েছিলেন। আগেও খেজুরিতে ওরা আমাদের শিবির ভাঙিয়েছে।’’ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্লকে তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য সমুদ্ভব দাশ বলেন, ‘‘ভোট এলেই খেজুরিতে অশান্তি হয়। যাতে শান্তি বজায় রাখা যায়, সেই চেষ্টাতেই পুলিশের এই জনসংযোগ কর্মসূচি।’’

আরও পড়ুন