Ghatal master Plan

নজর মাস্টার প্ল্যানে, গতি আনতে বৈঠক

রবিবার ঘাটাল টাউন হলে সেচমন্ত্রী অরূপ দাসের নেতৃত্বে ওই প্রশাসনিক বৈঠক হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:৪৪
পাম্প হাউসের কাজ পরিদর্শনে সেচমন্ত্রী, প্রধান সচিব-সহ প্রশাসনের  আধিকারিকেরা। ঘাটালের কৃষ্ণনগরে।

পাম্প হাউসের কাজ পরিদর্শনে সেচমন্ত্রী, প্রধান সচিব-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা। ঘাটালের কৃষ্ণনগরে। নিজস্ব চিত্র।

মাস্টার প্ল্যানের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বন্যা মোকাবিলার প্রাক প্রস্তুতি নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়ে গেল ঘাটালে।

তৃণমূল সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই কাজের জন্য সেই সময় বাজেটে টাকা (পাঁচশো কোটি) বরাদ্দ হলেও প্রস্তাবিত কোনও কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়নি বলে খবর। পালাবদলের পর বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ঘাটালের এই প্রকল্প নিয়ে উদ্যোগী হতে দেখা যায়। রাজ্য বাজেটে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করেছে শুভেন্দুর নেতৃত্বধীন সরকার। বর্ষার আবহে সেই কাজে বাড়তি নজর দিচ্ছে প্রশাসন।

রবিবার ঘাটাল টাউন হলে সেচমন্ত্রী অরূপ দাসের নেতৃত্বে ওই প্রশাসনিক বৈঠক হয়। ছিলেন সেচ দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ সিংহ, পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, ঘাটালের মহকুমাশাসক অনন্য জানা-সহ সেচ দফতরের পদস্থ বাস্তুকারেরা। ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট, দাসপুর ও চন্দ্রকোনার বিধায়ক তপন দত্ত ও সুকান্ত দোলইয়েরাও ছিলেন। স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, কৃষি, ত্রাণ দফতর-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরাও এসেছিলেন। এ দিন ঘাটাল ছাড়ার আগে সেচমন্ত্রী-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা শহরের কৃষ্ণনগরে নির্মীয়মাণ পাম্প হাউসের কাজ পরিদর্শনও করেন।

বৈঠক শেষে সেচমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দ্রুত রূপায়ণে জোর দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিক্ষিপ্ত ভাবে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। চার বছরের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শেষ করার টার্গেট রয়েছে। সেই মত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্ষা মিটলেই কাজের গতি বাড়ানো হবে।” সূত্রের খবর, রবিবারের বৈঠকে চলতি বর্ষার মরসুমে বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিধায়কেরাও তাঁদের মতামত জানান। ত্রাণ, ফ্লাড শেল্টার, যন্ত্র চালিত নৌকা, মাদার হাব, পানীয় জল, বিকল্প জেনারেটরের ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হয়। সেচমন্ত্রী জানান, মাস্টার প্ল্যান ছাড়াও বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সব দফতর সতর্ক। বন্যার সময় পানীয় জলের জন্য বিকল্প জেনারেটর নিয়ে কথা হয়েছে। ওষুধ, নৌকা মজুত রয়েছে।

সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে দাসপুরের চন্দ্রেশ্বর খাল খনন করে শিলাবতীর সঙ্গে সংযোগ করা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মাস্টার প্ল্যানের পুরনো প্রকল্প ধরে কাজ এগোলেও ডিপিআরে নতুন করে বেশ কিছু যোগ-বিয়োগ করা হয়েছে। এই কাজে জমি যে জরুরি তাও উঠে আসে বৈঠকে। ঘাটাল শহরের পশ্চিম পারে মূল বাজারের অংশটুকু বাঁচিয়ে নদী পারের সরকারি জমি ও বিক্ষিপ্ত ভাবে সংলগ্ন জমি নিয়ে ডোয়ার্ফ বাঁধ তৈরির ডিপিআরও চূড়ান্ত হয়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুন