Literary Meet

শেষ হল মেদিনীপুর লিটেরারি মিট, সাহিত্য উৎসবে ছিল প্রশ্নোত্তরের ঢেউ

কবিতা, গদ্য, গান ও অভিনয় জগত ছিল আলোচনার বিষয়। পাশাপাশি আয়োজন ছিল কবিতা পাঠ ও লিটল ম্যাগাজিন-বইয়ের স্টলের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ০৩:৩১
উদ্বোধনের মুহূর্ত।

উদ্বোধনের মুহূর্ত। — নিজস্ব চিত্র।

‘মেদিনীপুরের তরুণ কবিরা’ আয়োজিত মেদিনীপুর লিটেরারি মিটের ছয় বছর পূর্ণ হল। ৭ ও ৮ মার্চ, দু’দিন ব্যাপী সাহিত্য সভা আয়োজিত হয়েছিল মেদিনীপুর ফিল্ম সোসাইটিতে। সহযোগিতায় মেদিনীপুর পুরসভা। কবিতা, গদ্য, সংগীত, চলচ্চিত্র-নাটক ছিল আলোচ্য বিষয়। এ ছাড়াও ছিল দক্ষিণবঙ্গের নির্বাচিত ১২ জন কবির কবিতা পাঠ ও বই- লিটল ম্যাগাজিন স্টল। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন শ্রীজাত। প্রারম্ভিক সংগীত পরিবেশন করেন আরাত্রিকা সিনহা। সিদ্ধার্থ সাঁতরার কাব্যগ্রন্থ উন্মোচন করেন শ্রীজাত। উদ্বোধক শ্রীজাত দাবি করেন, গান- লেখা- ভালবাসা দিয়েই অন্ধকার পৃথিবীর বদল সম্ভব।

আরাত্রিকা সিনহা।

আরাত্রিকা সিনহা। — নিজস্ব চিত্র।

শনিবার ছিল কবিতা ও গদ্য নিয়ে আলোচনা। কবিতার বিষয় ছিল ‘সমকাল ও কবিতা’। আলোচক ছিলেন শ্রীজাত, মন্দাক্রান্তা সেন ও প্রফুল্ল পাল। এই বিভাগের সঞ্চালক ছিলেন কিরীটি সেনগুপ্ত। শ্রীজাত-র কথায় উঠে আসে সময়ের প্রতি অভিমানের কথা। মন্দাক্রান্তা আলোচনা করেন বর্তমান প্রজন্মের কবিতা ও কবিতায় ফুটে ওঠা একাকীত্ম, রাজনীতি ও আধ্য়াত্মিক অনুভব নিয়ে। প্রফুল্ল জানান, পাঠকদের পাঠ্যাভাসের কথা। গদ্যের বিষয় ছিল ‘প্রেম,রাজনীতি ও গল্প’। সঞ্চালক নরেশ জানা। আলোচক ছিলেন সুবর্ণ বসু ও বিতান চক্রবর্তী। সুবর্ণের আলোচনায় উঠে আসে সমালোচনা নেওয়ার ক্ষমতার কথা। বিতানের আলোচনা বেকারত্ব, প্রেম ও সমাজের পরিস্থিতির কথা ছুঁয়ে যায়।

রবিবার ছিল চলচ্চিত্র-নাটক এবং সংগীত নিয়ে আলোচনা। চলচ্চিত্র ও নাটক বিভাগের বিষয় ছিল ‘‘সিনেমা ও থিয়েটার এবং দর্শকের প্রত্যাশা’’। চন্দন সেন, সুজন নীল মুখোপাধ্যায় ও ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়দের প্রশ্ন করেছিলেন সিদ্ধার্থ। চন্দন বলেন, ‘‘ইনস্টাগ্রাম- এ ফলোয়ার দেখে কাউকে দিয়ে অভিনয় করানোর চল পুঁজিবাদের বর্তমান কঙ্কালসার চেহারা।’’ সুজন নীলের বলেন, ‘‘থিয়েটারের ক্ষেত্রে গ্রাম ও মফস্বলের দর্শক অনেক বেশি আন্তরিক।’’ ঋতব্রত মনে করেন, পাপারাৎজ়ি প্রভাব ইতিবাচক দিক থেকে অন্যভাবে থাকলে তাতে শিল্পের সুবিধা হয়। যেমন ব্যক্তি জীবন যেমন তুলে ধরা হয় তেমন যদি থিয়েটারের তথ্য প্রকাশ করা হয় তাহলে অনেক বেশি সমৃদ্ধ হয় শিল্প।

সংগীত নিয়ে আলোচনার সঞ্চালক ছিলেন সুপান্থ বসু। আলোচক ছিলেন রূপঙ্কর বাগচী ও শুভেন্দু মাইতি। আলোচনার বিষয় ছিল ‘‘বাংলা গানের স্থায়িত্ব: কথায় না সুরে?’’ রূপঙ্কর বলেন, ‘‘আগে সুর ঠিক করে তার পরে কথা আবার আগে কথা ঠিক করে তার পরে সুর দু'টোই হয়েছে তাঁর শিল্পে। তাই স্থায়িত্বের দাড়িপাল্লায় কথা ও সুর দুই সমান।’’ শুভেন্দুর কথায় উঠে আসে, কাব্যমূল্যের কথা। তিনি বলেন, ‘‘গানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকেই উৎসারিত আধুনিক গান।’’

আয়োজকদের তরফে সম্পাদক অভিনন্দন মুখোপাধ্যায় ও সভাপতি সিদ্ধার্থ জানান, পরের বছর লিটেরারি মিটের আলোচনার বিষয় হবে অভিনব। দু’দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সামগ্রিক সঞ্চালনা করেন মোম চক্রবর্তী ও কুমারেশ দে। আলোচকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেছিলেন শ্রোতারাও।

আরও পড়ুন