—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
রাতের অন্ধকারে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত কর্তাকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার এক যুবক। সম্পর্কের জটিলতার কারণে এই খুন বলে মনে করছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় থানা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম কার্তিক শাসমল। বয়স ৩৮ বছরের আশপাশে। শুক্রবার রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে ঘুমোতে যান যুবক। একই ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন স্ত্রী। হঠাৎ রাতে ওই ঘরে ঢোকেন প্রতিবেশী অভয় হেমব্রম। ধারালো অস্ত্র নিয়ে কার্তিকের উপরে হামলা করেন তিনি। ঘটনাস্থলেই মারা যান কার্তিক।
কার্তিকের স্ত্রীর চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা তাঁদের ছুটে গিয়েছিলেন। রক্তাক্ত অবস্থায় কার্তিককে পড়ে থাকতে দেখে তাঁরা নারায়ণগড় থানায় খবর দেন। ঘটনাক্রমে পুলিশ গিয়ে কার্তিকের নিথর দেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয় খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে। প্রতিবেশীদের অভিযোগ এবং বিবরণ শুনে অভয়কে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, কার্তিক আত্মরক্ষার কোনও সুযোগ পাননি। ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর উপর হামলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু কী কারণে এই খুন?
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তের প্রেক্ষিতে পুলিশের অনুমান, পরকীয়ার জটিলতা থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। জানা যাচ্ছে, কার্তিকের স্ত্রীর সঙ্গে অভয়ের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠতা। এ নিয়ে দুই পরিবারের অশান্তি চলছিল। শুক্রবার রাতে কার্তিকের ঘরে ঢুকে তাঁকে এলোপাথাড়ি কোপ মারলেও স্ত্রীর উপর হামলা করেননি অভিযুক্ত। তা ছাড়া, রাতে কী ভাবে অভিযুক্ত বাড়িতে ঢুকেছিলেন, ওই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নারায়ণগড় থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘‘মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’’