যানজটে জেরবার শহর। নিজস্ব চিত্র ।
শহর জেরবার যানজটে। সঙ্কীর্ণ রাস্তা জুড়ে পার্কিং, নানা দোকান। দোসর টোটোও। সমাধানের পথ খুঁজতে এ বার বৈঠকে ট্রাফিক পুলিশ।
সম্প্রতি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্র্যাফিক) মনোরঞ্জন ঘোষের দফতরে এই বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ছিলেন বিধায়ক সুজয় হাজরা, পুরপ্রধান সৌমেন খান প্রমুখ। বৈঠকে শহরের যানজট পরিস্থিতির প্রকৃত কারণগুলি চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। মেদিনীপুরের পুরপ্রধান বলেন, “বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে শহরে যানজট বৃদ্ধির পিছনের কারণগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। কী ভাবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে, সে নিয়েও কথা হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে খবর, বৈঠকের আগে ও পরে জেলার পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালী, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখের সঙ্গে কথা হয়েছে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (ট্র্যাফিক)। পুরপ্রধানের আশ্বাস, “যানজট সমস্যার সমাধানে শীঘ্রই কিছু পদক্ষেপ হবে।”
জেলার সদর শহর মেদিনীপুরে এমনিতেইর রাস্তা অনেকটা সঙ্কীর্ণ। তার দু’ধারে রকমারি সব দোকানপাট। ফুটপাত বলে কিছুই নেই। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং আর দোসর টোটোর ‘দৌরাত্ম্য’। ফলস্বরূপ, নিত্য যানজটে নাকাল হন শহরবাসী। অভিযোগ, বেশিরভাগ সময় টোটোয় যাত্রী তোলা বা নামানোর হচ্ছে মূল রাস্তাতেই। বড়বাজার, স্কুলবাজারের মতো বাজারগুলিতেও যানজটের সমস্যা রয়েছে।
একাংশ শহরবাসীর মতে, বড়বাজারের মধ্যে টোটো ঢোকা বন্ধ হলে যানজটের সমস্যা অনেকটা কমবে। একই মত মেদিনীপুর ব্যবসায়ী সমিতিরও। সমিতিও চাইছে, বড়বাজারের মধ্যে টোটো ঢোকা বন্ধ হোক। সমিতির সম্পাদক মলয় রায়ের কথায়, “বড়বাজারে যানজটের সমস্যা দিনে দিনে বাড়ছে। সুরাহা চেয়ে আমরা আগেই সংশ্লিষ্ট সকলকে চিঠি দিয়েছি। পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। বিধায়ক, পুরপ্রধান প্রমুখকেও চিঠি দিয়েছি। বড়বাজারের মধ্যে টোটোর চলাচল বন্ধ করার কথা বলেছি।” বড়বাজারের উত্তরদিকে রয়েছে মল্লিকচক। দক্ষিণে সঙ্গতবাজার। একাংশ ব্যবসায়ীর মতে, টোটো মল্লিকচক পর্যন্ত আসুক বা সঙ্গতবাজার পর্যন্ত আসুক। বড়বাজারের মধ্যে যেন না ঢোকে।
স্থানীয়দের মতে, অবৈধ পার্কিংও শহরের যানজটের অন্যতম কারণ। গত কয়েক বছরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ‘শপিং মল’ গড়ে উঠেছে। অভিযোগ, বেশিরভাগ ‘শপিং মলে’রই আলাদা পার্কিংয়ের জায়গা নেই। ফলে মলের সামনেই গাড়ি পার্কিং হয়। কার্যত রাস্তার উপরে গাড়ি রেখেই ঢোকেন ক্রেতারা। সেই জন্য কখনও কখনও সংশ্লিষ্ট রাস্তায় তীব্র যানজট হয়।
ট্র্যাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই, এমন ‘শপিং মল’গুলিকে সতর্ক করা হবে। জানানো হবে, কোনও ভাবেই যেন কেউ রাস্তায় গাড়ি না রাখেন। শহরের কোন কোন রাস্তায় সবচেয়ে বেশি যানজট হচ্ছে, কোনও সময়ে এবং কতক্ষণ এই সমস্যা থাকছে, শীঘ্রই তা খতিয়ে দেখা হবে। ফের এক বৈঠক হতে পারে। কোথাও রাস্তা চওড়া করা যায় কিনা বা যানজট এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব কিনা, সে সব নিয়ে কথা হতে পারে ওই বৈঠকে। রাস্তায় গাড়ির ‘চাপ’ কমানো নিয়েও কথা হতে পারে।