নতুন নাম লেখা বোর্ড। — নিজস্ব চিত্র।
রাজ্য সরকার বদলের পরে বিভিন্ন রাস্তার নতুন নামকরণের খবর সামনে আসছে। কলকাতার সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের রাস্তার নাম বদলে গোপাল মুখার্জি রোড করেছে কলকাতা পুরসভা। এ বার গড়বেতা ১ ব্লক এলাকার আমলাগোড়া পঞ্চায়েত এলাকায় দু’টি মোড়ের নতুন নাম দিয়েছেন গেরুয়া কর্মীরা। যার আইনি বৈধতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
মায়তাগামী রাজ্য সড়কে ঝাড়বনি মোড়ের নাম দেওয়া হয়েছে শ্রীশ্রী কৃষ্ণরাইজীউ মোড়। খড়কাটা যাওয়ার পথে তালড্যাংরা মোড়ের নাম হয়েছে শিবাজি মোড়। বুধবার বিকেলে নতুন নাম লেখা বোর্ড লাগানো হয়েছে ওই দুই এলাকায়। সূত্রের খবর, এই কাজের পিছনে রয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের লোকজন। উদ্যোক্তাদের পক্ষে অরিন্দম দে, মঙ্গল মিদ্যা, পার্থ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রদীপ রুইদাসরা বলছেন, ‘‘আমরা যাঁরা সঙ্ঘের আছি তাঁরাই এই নামকরণ করেছি। হিন্দু জাগরণ মঞ্চও আছে। আগামী দিনে গড়বেতার অন্যান্য রাস্তার মোড়েরও নামকরণ করা হবে।’’ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দক্ষিণবঙ্গ কার্যকারিণীর সদস্য অমিত দত্ত বলছেন, ‘‘ছত্রপতি শিবাজি হিন্দু সাম্রাজ্যের ঘোষণা করেছিলেন। তাই তালড্যাংরা মোড়কে শিবাজির নামে করা হয়েছে। ঝাড়বনির মোড় শ্রীকৃষ্ণরাইজীউয়ের নামে করা হয়েছে স্থানীয় আবেগকে স্বীকৃতি দিয়ে। কারণ মায়তায় শ্রীকৃষ্ণরাইজীউয়ের প্রাচীন মন্দির আছে।’’
যদিও অনেকে অবশ্য মনে করাচ্ছেন, হঠাৎ করে কোনও রাস্তা বা রাস্তার মোড়ের নামকরণ করা যায় না। এর নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। গ্রামীণ এলাকায় হলে বিষয়টি আগে পঞ্চায়েতে জানাতে হয়। পঞ্চায়েত বিজ্ঞপ্তি (নোটিফিকেশন) জারি করে। তার পর সভা করে এলাকাবাসীকে পুরো বিষয়টি জানাতে হয়। কোনও আপত্তি আসছে কি না দেখা হয়। এই নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্তের পরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নতুন নামে সিলমোহর দেয় পঞ্চায়েত। এই ক্ষেত্রে কোনওটাই হয়নি। গড়বেতা ১ ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘কোথায় কী নামকরণ করা হয়েছে তা পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিসে কেউ জানায়নি।’’ হিন্দু জাগরণ মঞ্চের অমিতের দাবি, যা কিছু হবে, নিয়ম মেনেই হবে। এলাকায় যাতে নামগুলির পরিচয় তৈরি হয় তাই আগেই বোর্ড লাগানো হয়েছে। আমলাগোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির সদস্য ইন্দ্রজিৎ সিংহ বলেন, ‘‘এর সরকারি অনুমোদন যাতে মেলে তার চেষ্টা থাকবে।’’