Mukul Roy Death

হালিশহরের শ্মশানে মুকুল রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন, শেষযাত্রার পুরো পথেই সঙ্গী হলেন অভিষেক

রবিবার গভীর রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মুকুল রায়ের। দীর্ঘ দিন ধরেই নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৮
Mukul Roy\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s last rites were performed at Halishahar crematorium, Abhishek Banerjee was present at the funeral procession

কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে মুকুল রায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশে ছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত।

সোমবার সন্ধ্যায় হালিশহরের শ্মশানে কাঠের চুল্লিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হল মুকুল রায়ের। বিধানসভা থেকে মুকুলের দেহ নিয়ে আসা হয় কাঁচরাপাড়ায় তাঁর বাসভবন ‘যুগল ভবনে’। তার বাইরে বেশ কিছু ক্ষণ শায়িত ছিল রাজনীতিকের দেহ। সেখানে তাঁকে একে একে শেষ শ্রদ্ধা জানান অনেকে। ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

তার পরে সেখান থেকে মুকুলের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় হালিশহরের শ্মশানে। সেখানেই সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য। প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তায় তাঁর দেহের আশেপাশে ছিলেন অগুনতি মানুষ। পদযাত্রায় মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে শ্মশান পর্যন্ত গেলেন অভিষেকও। শেষকৃত্যের সময়েও ছিলেন তিনি। শেষযাত্রা এবং শেষকৃত্যের সময় ছিলেন পানিহাটির বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, নৈহাটির বিধায়ক সনৎ দে, চিকিৎসক নেতা নির্মল মাঝি, কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা, ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। সওয়া ৭টা নাগাদ শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় মুকুলের।

রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এক সময়কার ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ মুকুল। দীর্ঘ দিন ধরেই নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রবিবার গভীর রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর খবর পেয়েই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকেরা।

শুধু তৃণমূল নয়, বিজেপি,কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল মুকুলের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে। প্রয়াত বিধায়ককে ‘অভিজ্ঞ নেতা’ এবং ‘সহকর্মী’ বলে উল্লেখ করে মুকুল-পুত্রকে সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্মৃতির পথে হেঁটে তাঁর দলের পুরনো ‘সৈনিক’কে নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘ওঁর সহসা প্রয়াণের সংবাদে বিচলিত ও মর্মাহত বোধ করছি। তিনি আমার দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন।’ একই সঙ্গে জানান, মুকুল তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ‘প্রাণপাত’ করেছেন। দলের সর্ব স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল।

তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে মমতার সঙ্গে জুড়ে ছিলেন মুকুল। ১৯৯৭ সালে যখন তৃণমূল গঠনের নথিপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে, তখন নতুন দলটির প্রথম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হন মুকুলই। তৃণমূলে মুকুলের অবস্থান ছিল মমতার পরেই। কিন্তু সারদাকাণ্ডের পর থেকে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে মুকুলের। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। শোকবার্তায় মুকুলের বিজেপিতে যোগ দেওয়াকে ‘ভিন্ন পথে’ চলে যাওয়া বলে উল্লেখ করেন মমতা।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সেই সংগঠন মজবুত করতে হাত লাগান মুকুল। ওই সময়ে মুকুলের হাত ধরে তৃণমূল থেকে অনেকেই বিজেপিতে চলে যান। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি ১৮টা আসন পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আরও গুরুত্ব পান মুকুল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁকে প্রার্থীও করে বিজেপি। জেতেনও। কিন্তু তার পরের মাসেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরেন মুকুল। তৃণমূল ভবনে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে সপুত্র ঘাসফুল শিবিরে ফিরে আসেন। সে দিন ‘ঘরের ছেলে’ বলে মুকুলকে স্বাগত জানিয়েছিলেন মমতা। সেই যোগদান পর্বে ছিলেন অভিষেকও।

তৃণমূলে ফেরার পর আর সে ভাবে মুকুলকে সক্রিয় ভাবে দেখা যায়নি। বাদ সাধে তাঁর শারীরিক অবস্থা। নানা রোগ বাসা বাঁধে তাঁর শরীরে। এক সময় আর ঘর থেকে বার হওয়ার ক্ষমতা ছিল না মুকুলের। বার বার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হত। কোমাতেও চলে যান তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারেরা। হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিধানসভায়। সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছে যান অভিষেক। মুকুলের দেহ পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, সুজিত বসুরা। বিজেপির তরফে মুকুলকে শেষ শ্রদ্ধা জানান বিধায়ক অরূপ দাস, অশোক ডিন্ডা, পবন সিংহ, নরহরি মাহাতো, শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং মালতী রাভা। ওএসডি প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় মারফত পুষ্পস্তবক পাঠিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন শুভেন্দুও।

বিধানসভা থেকে মুকুলের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় তাঁর বাসভবন ‘যুগল ভবনে’। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক। ছিলেন স্থানীয় নেতৃত্বও। তার পরে ‘যুগল ভবন’ থেকে মুকুলের দেহ পদযাত্রা করে নিয়ে যাওয়া হয় হালিশহর শ্মশানে। সেখানে কাঠের চুল্লিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় এক সময়ের ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্যে’র।

Advertisement
আরও পড়ুন