Nabanna sending a special police team to Delhi

বঙ্গভবন পাহারায় কলকাতা থেকে পুলিশের বিশেষ দল পাঠাচ্ছে নবান্ন! ‘হেনস্থা’ বিতর্কে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে

নবান্ন সূত্রের খবর, সোমবার রাতেই রাজ্য পুলিশের মোট ২২ জনের একটি বিশেষবাহিনী দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৫৬
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দিল্লি সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সংঘাত নতুন মাত্রা নিল। সোমবার দিনভর দিল্লি পুলিশের ‘নজরদারি’ ও ‘অতিসক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আবহেই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। দিল্লিতে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অতিথিশালা বঙ্গভবনের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং সেখানে থাকা পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর (এসআইআর) কারণে দুর্গতদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কলকাতা থেকে রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, রবিবার দিল্লি গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার এসআইআর দুর্গতদের নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরেও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সকাল থেকেই দিল্লি পুলিশের নানা গতিবিধি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ তুলেছেন মমতা।

Advertisement

নবান্ন সূত্রের খবর, সোমবার রাতেই রাজ্য পুলিশের মোট ২২ জনের একটি বিশেষবাহিনী দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে। এই দলে যেমন পুরুষ ও মহিলা পুলিশকর্মী রয়েছেন, তেমনই থাকছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র‍্যাফের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের সদস্যেরাও। গোটা দলটির নেতৃত্বে থাকছেন এক জন ডিএসপি এবং এক জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষকর্তার দাবি, দিল্লিতে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চায় না নবান্ন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল পীযূষ পাণ্ডে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁর নির্দেশেই এই বিশেষ দলটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার বিকেলের মধ্যেই চূড়ান্ত হয়ে যায় কোন কোন আধিকারিক ও কর্মীরা এই দলে থাকবেন। দিল্লিতে পৌঁছোনোর পর তাঁরা বঙ্গভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ এবং এসআইআর কর্মীদের চলাচলের সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

উল্লেখ্য, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দিল্লিতে তাঁর গতিবিধির উপর অযথা নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের কাজেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, একটি নির্বাচিত রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের প্রতি এ ধরনের আচরণ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নবান্নের একাংশের মতে, দিল্লি পুলিশের সঙ্গে কোনও সংঘাতে না গিয়ে রাজ্য নিজের দায়িত্বে নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ। তবে বিরোধী বিজেপির কটাক্ষ, এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতকে আরও তীব্র করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সময়ে দিল্লিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপড়েন যে নতুন মোড় নিচ্ছে, বঙ্গভবনের নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের এই নজিরবিহীন মোতায়েন তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কোনও রাজ্যের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের এমন সংঘাতের ঘটনা আগে কখনও ঘটেছে বলে স্মরণ করতে পারছেন না জাতীয় রাজনীতির কারবারিরা। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করার পাশাপাশি এসআইআর বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রীর।

Advertisement
আরও পড়ুন