Acid Attack

দাবিমতো পণ মেলেনি, ‘তার উপর’ দুই কন্যার জন্ম! শান্তিপুরে বধূর মুখে অ্যাসিড ঢালার অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে

জানা গিয়েছে, ওই বধূর শ্বশুরবাড়ির এক সদস্য স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েতের সদস্য। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই মহিলাকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ২৩:১৭
A complaint has been filed at the police station regarding an incident where acid was thrown at a woman in Shantipur

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বিয়ের পর থেকে বার বার পণের দাবি তুলেছিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। সেইমতো পণ মেটাতে পারেননি মহিলার বাপের বাড়ির লোকেরা। চার বছর বিয়ে হয়েছিল। পর পর দুই সন্তানই মেয়ে। অভিযোগ, সেই রাগে বধূর মুখে অ্যাসিড ঢালার অভিযোগ উঠল নদিয়ার শান্তিপুরে। কাঠগড়ায় ওই বধূর স্বামী এবং তাঁর বাড়ির লোকেরা। নির্যাতিতার বাপের বাড়ির তরফে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ওই বধূর শ্বশুরবাড়ির এক সদস্য স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েতের সদস্য। গুরুতর জখম অবস্থায় ওই মহিলাকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা চলছে তাঁর। হাসপাতাল সূত্রে খবর, অ্যাসিডে ওই মহিলার মুখের একাংশ মারাত্মক ভাবে ঝলসে গিয়েছে। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আক্রান্ত মহিলার বাপের বাড়ির অভিযোগ, চার বছর আগে গয়েশপুর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় তাদের কন্যার। বিয়ের সময় কোনও যৌতুক দেওয়ার কথা না-থাকলেও, বিয়ের পর থেকে টাকার দাবিতে তাদের মেয়ের উপর লাগাতার শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার চলত বলে অভিযোগ।

ওই বধূর বাবা জানান, অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় জামাইয়ের অন্যায্য দাবি মেটাতে পারছিলেন না তিনি। তার মধ্যেই তাঁর মেয়ে পর পর দুই কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। মাঝেমধ্যেই ফোনে কান্নাকাটি করতেন আক্রান্ত মহিলা। এলাকার মানুষ এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতকে জানিয়ে বিবাদের মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন ওই বধূর বাবা। কিন্তু তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির এক জন পঞ্চায়েতের সদস্য হওয়ায় কোনও মীমাংসাই হয়নি। বরং অত্যাচার আরও বেড়েছিল।

অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে ওই বধূর উপর শারীরিক অত্যাচার করেন তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। বাধা দিতে গেলে তাঁর মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্তের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে তরুণীকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ইতিমধ্যেই আক্রান্তের পরিবারের তরফে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি এবং ওই তৃণমূল নেতা-সহ মোট চার জনের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্তেরা। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার আশিস মৌর্য ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, আক্রান্ত মহিলার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।

Advertisement
আরও পড়ুন