Siliguri Incident

নদীতে নেমেছিল ভাই, তলিয়ে যেতে দেখে ঝাঁপায় দিদিও, শিলিগুড়িতে মৃত্যু দু’জনের! স্ত্রীর পর সন্তানদেরও হারিয়ে শোকস্তব্ধ যুবক

স্থানীয়েরা নদীতে নেমে অসচেতন অবস্থায় রিয়া এবং ঋষভকে উদ্ধার করেন। তাদের শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ২২:০৭
Two children drowned in a river in Siliguri

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পা ধুতে নদীতে নেমেছিল ভাই। কিন্তু জলের তোড়ে তলিয়ে যায় সে। তা দেখে সাত-পাঁচ না-ভেবে নদীতে ঝাঁপ দেয় দিদি। সে-ও তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ভাই-বোনের। শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে।

Advertisement

ভারী বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের নানা জায়গায় ভাসছে। কোথাও কোথাও ধস নেমেছে। অতি বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়ছে। শুধু পাহাড় নয়, শিলিগুড়িও বিপর্যস্ত। সেই আবহে শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের পঞ্চানন নদীতে তলিয়ে গেল ভাই-বোন। মৃত দু’জন রামকৃষ্ণ কলোনী এলাকার বাসিন্দা সুব্রত কর্মকারের সন্তান।

জানা যায়, সুব্রতের সংসার তাঁর ছেলে-মেয়েকে নিয়ে। মাস সাতেক আগে মৃত্যু হয় স্ত্রীর। তার পর থেকে মেয়ে রিয়া এবং ছেলে ঋষভকে নিয়ে থাকতেন সুব্রত। শনিবার সকালে কাজে বেরিয়েছিলেন তিনি। দুপুরের দিকে ফোনে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর দুই সন্তানই পঞ্চানন নদীতে তলিয়ে গিয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন সুব্রত। স্থানীয়েরা নদীতে নেমে অচেতন অবস্থায় রিয়া এবং ঋষভকে উদ্ধার করেন। তাদের শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার ষষ্ঠী উপলক্ষে ভাইকে নিয়ে রিয়া দিদার বাড়ি যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিল। তবে রাস্তায় যেতে যেতে ঋষভের জুতোয় কাদা লাগে। তখন সে জুতোর কাদা পরিষ্কার করতে স্থানীয় নদীতে নামে সে। ছোট নদী হলেও বর্ষার জলের স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে সে তলিয়ে যায়। ছোট ভাইকে তলিয়ে যেতে দেখে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে রিয়া৷ তবে সে-ও তলিয়ে যায়। বেশ কিছুটা দূরে ভেসে চলে যায় দু’জনে।

স্থানীয়দের নজরে আসতেই এলাকাবাসী নদীতে নেমে দু’জনকে তুলে আনেন। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছেন সুব্রত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় কাউন্সিলর অমর আনন্দ দাস। তাঁর কথায়, ‘‘মর্মান্তিক ঘটনা। সুব্রতের পরিবার বলতে আর কিছু রইল না। গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ। সব কিছু সাহায্যের জন্যই পরিবারের পাশে রয়েছি।’’

Advertisement
আরও পড়ুন