—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
কল্যাণী কেন্দ্রে অনেক পরে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। তাতেও দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ কাটেনি। গত বারের জয়ী আসনে কেন প্রার্থী পদে বদল আনা হল? কেন বিদায়ী বিধায়ক অম্বিকা রায়কে এ বার টিকিট দেওয়া হল না? এই দাবিতে সোমবার কলকাতায় রাজ্য বিজেপির কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান দলেরই একাংশের কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁরা নিজেদেরকে অম্বিকা-অনুগামী বলেই দাবি করেছেন।
গত শনিবার বিকালে পঞ্চম দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি। সেই তালিকাতে কল্যাণী কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে উল্লেখ থাকে অনুপম বিশ্বাসের নাম। তিনি কল্যাণীর বাসিন্দা ও বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি।
কিছুদিন আগে বিজেপির রাজ্য দফতরের সামনে কল্যাণীর বিদায়ী বিধায়ক অম্বিকাকে টিকিট না দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কিছু লোকজন, তাঁরাও নিজেদের বিজেপি কর্মী-সমর্থক বলেই দাবি করেছেন। শেষ পর্যন্ত অম্বিকাকে সরিয়ে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয় অনুপমকে। বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, অম্বিকাকে নিয়ে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ আগে থেকেই ছিল যে কারণে এ বার প্রার্থী পদে বদল আনা হয়েছে। তা ছাড়া স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করার দাবিও ছিল দলেরএকাংশের মধ্যে।
সোমবার বিজেপির রাজ্য পার্টি অফিসে যারা বিক্ষোভকারীদের বলতে শোনা যায়, ‘প্রার্থী হিসাবে অনুপম বিশ্বাসকে মানবো না।’ তিনি কিছুদিন আগে ও পার বাংলা থেকে এসেছেন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় অনুপম বলেন, “একটি বৈঠকে ব্যস্ত। এ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করব না।” আর অম্বিকাকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ৯ এপ্রিল। ইতিমধ্যেই কল্যাণী কেন্দ্রে তৃণমূল ও সিপিএমের দুই প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অথচ বিজেপি দেরিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেও দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে দলের এই অসন্তোষ ভোটের সমীকরণের প্রভাব ফেলতে পারে। আর তৃণমূলের রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “ওরা নিজেদের মধ্যেই একে, অপরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাক। এরপরেও মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাবে কোন মুখে!”