migrant labour

ভিন্‌রাজ্যে আবার মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের! পড়শিদের সহায়তায় খয়রামারিতে ঘরে ফিরছে দেহ

মৃত শ্রমিকের দেহ ভিন্‌রাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। এমতাবস্থায় দেহ ফেরাতে উদ্যোগী হন প্রতিবেশীরা। পথে নেমে চাঁদা তুলতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:১০

— প্রতীকী চিত্র।

কাজে গিয়ে মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদের আরও এক পরিযায়ী শ্রমিকের। কেরলে কাজে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান ৪২ বছরের আইনুল শেখ। অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পাঁচ মাস আগে দক্ষিণ ভারতে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। এ বার পড়শিদের সহায়তায় খয়রামারিতে ঘরে ফিরছে তাঁর দেহ।

Advertisement

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কেরলের পেরুম্বাভুর এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন আইনুল। বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী, এক নাবালক পুত্র এবং দুই কন্যা। দিন সাতেক আগে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই গত মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। বুধবার ভোরে এই দুঃসংবাদ গ্রামে পৌঁছোতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার।

মৃত শ্রমিকের দেহ ভিন্‌রাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। এমতাবস্থায় দেহ ফেরাতে উদ্যোগী হন প্রতিবেশীরা। পথে নেমে চাঁদা তুলতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। বিষয়টি নজরে আসতেই তৎপর হন জলঙ্গির বিধায়ক আবদুর রাজ্জাক এবং জলঙ্গি উত্তর ব্লক সভাপতি বিজন কুমার মণ্ডল। তাঁদের নির্দেশে খয়রামারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিঠুন বিশ্বাস পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

পঞ্চায়েত প্রধান জানান, দেহটি কেরল থেকে বিমানে কলকাতা বিমানবন্দরে আনা হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে দেহটি গ্রামে ফিরিয়ে আনার জন্য পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই খয়রামারি থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। মিঠুনবাবু বলেন, ‘‘মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা সাধ্যমতো পরিবারের পাশে রয়েছি। সরকারি সাহায্য যাতে পরিবারটি পায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’

তবে শুধু পঞ্চায়েতের আশ্বাস নয়, মৃত আইনুলের পরিবারের জন্য স্থায়ী সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রের খবর, ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন