River restoration

বাজেটে আশা, দুই নদী সংস্কার কবে?

বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে জলঙ্গির খড়ে ও ভৈরব নদ। এই দু’টি নদীর সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসন উদ্যোগী হোক, এমনই দাবি করিমপুর এলাকার বাসিন্দাদের।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০১:০৬
নদীতে আবর্জনা। পলাশিপাড়ায়।

নদীতে আবর্জনা। পলাশিপাড়ায়। — নিজস্ব চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য ঘোষিত বাজেটে নদী সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। তার পরেই নতুন করে নদী পারের মানুষেরা আশার আলো দেখছেন। বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে জলঙ্গির খড়ে ও ভৈরব নদ। এই দু’টি নদীর সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসন উদ্যোগী হোক, এমনই দাবি করিমপুর এলাকার বাসিন্দাদের।

এক সময়ে উত্তরে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির কাছে পদ্মার সংযোগে ছিল দীর্ঘ প্রায় ৪৫ কিলোমিটার লম্বা খড়ে নদী। প্রত্যেক বছর নদী উপচে দুই কূল প্লাবিত হত। তাতে ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছিল। যে কারণে বছর ৪০ আগে এই নদীর উৎসমুখ শিয়ালমারিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার, নদীর অন্য দিকে মুর্শিদাবাদের চারুনগর এলাকায় লুইস গেট করার প্রচেষ্টায় মাটির বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকে নদী তার স্বাভাবিক চরিত্র হারাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। এখন বছরের বেশিরভাগ সময়েই নদীতে জল থাকে না।

অন্য দিকে, হোগলবেড়িয়া দিয়ে পদ্মা নদীর সংযোগ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে তেহট্ট সীমান্তের ইংলিশেমারি দিয়ে বাংলাদেশের দিকে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদেরও করুণ অবস্থা। বর্ষাকালে বৃষ্টির জল কিছুটা জমে থাকলেও বছরের বাকি সময়ে সূর্যের তাপে নদীর বুকের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়।

‘সেভ জলঙ্গি’র সম্পাদক শঙ্খশুভ চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, এক সময়ে এই নদীগুলি দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা চালু ছিল। দুই দিকের জমিতে জল সেচ দেওয়া হত। কয়েক হাজার মৎস্যজীবী নদীর উপরে নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তা ছাড়াও, প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার কাজ করতে এই নদী। তাঁর মতে, যে কারণে নদীগুলি দ্রুত সংস্কার করে পুনর্জীবিত করা দরকার। না হলে অচিরেই এই নদী দু’টি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে তাঁদের দাবি।

করিমপুরের বিধায়ক সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘‘এই দাবি করিমপুর এলাকার মানুষের অনেক দিনের। বাজেটে নদীর সংস্কারের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, জনস্বার্থে নদী সংস্কার করতে পারব।’’

আরও পড়ুন