তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের বাগানবাড়ি বুলডোজ়ার চালিয়ে ভাঙল প্রশাসন। যদিও এই ঘটনার পরেই পদত্যাগ করেন ওই প্রধান সুষমা ঘোষ। শনিবার মণীন্দ্রনগরে। ছবি: গৌতম প্রামাণিক
রাজ্যে পালাবদলের পরে বেআইনি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে বহরমপুর পুরসভা এবং জেলা প্রশাসন। বহরমপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কোথাও রাস্তার ধারের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কোথাও বা সরকারি জমির উপর তৈরি করা যুব তৃণমূলের কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আবার রেলের পক্ষ থেকে বহরমপুর কোর্ট স্টেশন এবং কাশিমবাজার স্টেশন চত্বরেও বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এ বারে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে বহরমপুর শহর লাগোয়া মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের সুষমা ঘোষের বাগানবাড়ি ভেঙে দিল বহরমপুর পুরসভা। শনিবার সকালে বহরমপুর শহরের সৈদাবাদ এলাকায় সুষমা ঘোষের চারকাঠা জমির উপরে তৈরি হওয়া ওই বাগানবাড়িটি বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
বহরমপুরের বিধায়ক বিজেপির সুব্রত মৈত্র বলেন, ‘‘ওই জায়গায় পার্ক ছিল। জাল দলিল তৈরি করে ওরা জমির রেকর্ড করেছে। তার নথি আমাদের কাছে আছে। সেখান থেকে এলাকার মানুষের উপর অত্যাচার করা হত। এতদিন ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারেনি এলাকার লোকজন। তাঁরা এবারে পুরসভা এবং প্রশাসনকে জানান। পুরসভা ভেঙে দিয়ে ঠিক কাজ করেছে।’’
বহরমপুর পুরসভার কর্মকর্তারা অবশ্য পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি ভাঙার বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। তবে পুরসভা সূত্রের খবর বেআইনি ভাবে ওই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে বিষয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় শনিবার সেই বাড়িটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সুষমা ঘোষ হলেন বহরমপুর শহর যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি পাপাই ঘোষের স্ত্রী। গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পাপাই ঘোষের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়। তারপর থেকে পাপাই ঘোষ এবং তাঁর স্ত্রী সুষমা ঘোষ অজ্ঞাতবাসে চলে যান। তবে ঘটনাচক্রে যেদিন সুষমা ঘোষের বাগানবাড়ি পুরসভা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিচ্ছে সেদিন এই তিনি প্রকাশ্যে এসেছেন এবং বহরমপুর বিডিও অফিসে গিয়ে মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর বাগানবাড়ি ভেঙে দেওয়ার সঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই বলে সুষমা জানিয়েছেন।
বাগানবাড়ি ভেঙে দেওয়ার প্রসঙ্গে মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের পদত্যাগী প্রধান সুষমা ঘোষ বলেন, ‘‘ওই জমি সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে এবং পুরসভার নিয়ম মেনেই বাড়ি তৈরি করেছিলাম। আজ সকালে পুরসভা আমার সেই বাড়ি ভেঙে দিয়েছে। আমি এ বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হব।’’ পাপাইয়ের মা চম্পা ঘোষ বলেন, ‘‘আমার ছেলে বৌমার নামে এই জমি কিনেছিল। তার দলিল রয়েছে। আমরা নোটিস পাওয়ার পরে সেই দলিল পুরসভায় জমা দিয়েছি। তারপরেও এদিন সকালে সেই বাড়ি ভেঙে দিয়েছে। তবে ছেলে কোথায়, জানি না।’’