Beldanga Violence

বেলডাঙার অশান্তি কি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র? কারণ খুঁজতে ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল, সংগ্রহ করল নমুনা

মঙ্গলবার সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ঘটনাস্থলে যান ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। এলাকাটি দড়ি দিয়ে ঘিরে রেখে বেশ কিছু ক্ষণ ধরে চলে নমুনা সংগ্রহের কাজ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৮
Forensic team goes to Beldanga to collect samples

বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে ফরেন্সিক দল। —নিজস্ব চিত্র।

বেলডাঙার বড়ুয়া মোড় এলাকা ঠিক কী ঘটেছিল? কারা অশান্তির নেপথ্যে জড়িত? কোনও নাশকতার ছড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল না তো? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এ বার ঘটনাস্থলে গেল ফরেন্সিক দল। মঙ্গলবার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার পরে তথ্য এবং নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান তাঁরা।

Advertisement

টানা দু’দিন অশান্তির পর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। রবিবারের পর থেকে আর ওই এলাকায় নতুন করে অশান্তি ছড়ায়নি। সোমবার থেকেই দোকানপাট, বাজার-হাট খুলতে শুরু করেছে। তবে মঙ্গলবারও এলাকা থমথমে ছিল। শনিবার যে এলাকা অর্থাৎ, বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে অশান্তির সূত্রপাত সেখানে মঙ্গলবার সকালে পৌঁছোয় রাজ্যের ফরেন্সিক দল।

মঙ্গলবার সকালে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ঘটনাস্থলে যান ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। এলাকাটি দড়ি দিয়ে ঘিরে রেখে বেশ কিছু ক্ষণ ধরে চলে নমুনা সংগ্রহের কাজ। সংঘর্ষে পোড়া ধ্বংসাবশেষ, ইটের টুকরো এবং অন্যান্য সন্দেহজনক বস্তুর নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। পাশাপাশি, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ক্যামেরাবন্দি করা হয়। বড়ুয়া মোড় পরিদর্শনের পর বিশেষজ্ঞেরা বেলডাঙা থানাতেও যান এবং সেখানেও সংগৃহীত প্রমাণের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেন।

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই অশান্তির নেপথ্যে কোনও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা জানতেই ফরেন্সিক তদন্তের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে এলে ঘটনার গতিপ্রকৃতি এবং ব্যবহৃত দাহ্য পদার্থ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। আপাতত বড়ুয়া মোড় এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে রঘুনাথগঞ্জ এবং বেলডাঙা থানার পুলিশ বাহিনী।

অন্য দিকে, বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায় তবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। এমনই জানায় কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারে রাজ্য। তাতে বাধা নেই। শুধু তা-ই নয়, বেলডাঙায় যাতে কারও জীবন, মর্যাদা এবং সম্পত্তি বিপন্ন না-হয় তার দায়িত্ব মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকের। রাজ্য সরকারকে এ ব্যাপারে ১৫ দিনের মধ্যে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিল হাই কোর্ট। আদালতের আরও নির্দেশ, ওই এলাকায় থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করতে হবে রাজ্য সরকারকে।

Advertisement
আরও পড়ুন