Agitation in Nadia BSF Sector Headquarter

‘শূন্যপদ নেই তো অ্যাডমিট দিলেন কেন?’ পথ অবরোধে চাকরিপ্রার্থীরা, বিএসএফের নিয়োগে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা

দূর-দূরান্ত থেকে আসা মহিলা পরীক্ষার্থীদের ‘শূন্যপদ নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়ক দীর্ঘ ক্ষণ অবরোধ করে রাখেন চাকরিপ্রার্থীরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৭
Agitation in Nadia BSF Sector Headquarter

পরীক্ষা দিতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন এক পরীক্ষার্থী। —নিজস্ব ছবি।

ভিন্‌রাজ্যের বাসিন্দা বলে বিএসএফের ট্রেডসম্যান নিয়োগের পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তেজনা নদিয়ার চাপড়া থানার সীমানগর বিএসএফ সেক্টর হেডকোয়ার্টারে। পরীক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, পরীক্ষা দিতে গিয়ে তাঁরা আচমকা শোনেন যে বিহার এবং ওড়িশার কারও জন্য শূন্যপদ নেই। কেন তা নোটিসে জানানো হয়নি, তাই নিয়ে শুরু হয় শোরগোল।

Advertisement

২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিএসএফ-এর ট্রেডসম্যান পদে মোট ৩,৫৮৮টি শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল ১৮২টি আসন। টেলার, রান্নার সহায়ক, সুইপার-সহ বিভিন্ন পদের জন্য রাজ্যভিত্তিক শূন্যপদ নির্দিষ্ট করা ছিল। শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের লিখিত ও ট্রেড টেস্টের মাধ্যমে নিয়োগের কথা। গত মাস থেকে দেওয়া হয় অ্যাডমিট কার্ডও। সেই অনুযায়ী ১০ মার্চ শারীরিক পরীক্ষার জন্য সীমানগর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে ভিড় করেছিলেন কয়েকশো পরীক্ষার্থী।

কিন্তু দূর-দূরান্ত থেকে আসা মহিলা পরীক্ষার্থীদের ‘শূন্যপদ নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়ক দীর্ঘ ক্ষণ অবরোধ করে রাখেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা জানান, ভোর থেকে লাইন দেওয়ার পর নথিপত্র যাচাইয়ের সময় বিএসএফ আধিকারিকেরা জানান, বিহার এবং ওড়িশার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ট্রেডে কোনও শূন্যপদ নেই। বিহারের ভাগলপুরের বাসিন্দা সুষমা কুমারীর কথায়, ‘‘বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল টেলারিংয়ে ১১ টি শূন্যপদ আছে। সেই অনুযায়ী আবেদন করেছিলাম। নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাডমিটও দিয়েছে। আজ পরীক্ষার নির্দিষ্ট দিন ছিল। সারা রাত ট্রেনে জেগে এসে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়ালাম। সকাল ৯টার সময় বিএসএফ আধিকারিকেরা বলছেন, বিহারিদের জন্য ‘ভ্যাকেন্সি’ নেই! বিহারি বলে পশ্চিমবঙ্গে পরীক্ষা দিতে পারব না?’’ ওড়িশার তন্ময়ী প্রধান নামে আর এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘‘আমি ওয়াটার ক্যারিয়ার পদের জন্য আবেদন করেছিলাম। শূন্যপদ না-থাকলে অ্যাডমিট দিল কেন? তিন দফা অ্যাডমিট চেক করেছে, কেউ কিছু বলেননি। তার পর হঠাৎ বলছেন ওড়িশার জন্য ওই পদের ‘ভ্যাকেন্সি’ নেই। আমি বাড়িতে গিয়ে কী বলব? অন্তত এটা লিখে দিক যে আমরা এসেছিলাম।’’

ওই পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভে কিছু ক্ষণ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্তব্ধ ছিল। পাশাপাশি কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা। পরে চাপড়া থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিএসএফ কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। অন্য দিকে, চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক রুকবানুর রহমান এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। তিনি সরাসরি কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেন, ‘‘নিয়োগের নামে ভাঁওতা দিয়ে এতগুলো ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করা হল! অমিত শাহের মন্ত্রক বেকারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। কয়েকশো কিলোমিটার দূর থেকে আসা মহিলা পরীক্ষার্থীদের সারারাত রাস্তায় বসিয়ে রাখা হল। এমনকি শৌচালয় পর্যন্ত ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি।’’

Advertisement
আরও পড়ুন