Baby Recovered From Krishnanagar Road

কী ভাবে কৃষ্ণনগরে রাস্তার ধারে এল ওই শিশু? হাওড়ার পরিযায়ী শ্রমিক গুজরাতে বসে দাবি করলেন, তিনিই বাবা

হাওড়ার বাসিন্দা পেশায় সেলাই কর্মী পলাশ মণ্ডল নামে এক যুবক ভিডিয়ো প্রকাশ করে দাবি করেন, তিনি শিশুটির বাবা। এখন তিনি গুজরাতের উধনায় কাজ করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০১
উদ্ধার হওয়া সেই শিশু।

উদ্ধার হওয়া সেই শিশু। — নিজস্ব চিত্র।

কৃষ্ণনগরে রাস্তার ধারে ঝোপ থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুকন্যার পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। কী ভাবে, কোথা থেকে সেখানে এল ওই শিশু, উঠেছে প্রশ্ন। এক ব্যক্তি ইতিমধ্যে নিজেকে উদ্ধার হওয়া সেই শিশুর পিতা বলে দাবি করে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন (ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিয়োটি তাদের নজরে এসেছে।

Advertisement

শুক্রবার রাতে শিশুটিকে কৃষ্ণনগর ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এক টোটো চালক। তাকে থানায় দিয়ে আসে উদ্ধারকারীর পরিবার। এখন শিশুটি একটি হোমে রয়েছে। তার পরিচয় জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তার মধ্যে হাওড়ার বাসিন্দা পেশায় সেলাই কর্মী পলাশ মণ্ডল নামে এক যুবক ভিডিয়ো প্রকাশ করে দাবি করেন, তিনি শিশুটির বাবা। এখন তিনি গুজরাতের উধনায় কাজ করেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাসিন্দা ওই যুবকের সঙ্গে বালুরঘাটের অনিমা ভৌমিকের আলাপ হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। বছর দুয়েক আগে মন্দিরে বিয়ে করে ঘর বেঁধেছিলেন তাঁরা। কাজের সূত্রে স্ত্রীকে নিয়ে উধনায় চলে যান ওই যুবক। গত বছর ডিসেম্বরে অনিমা কন্যার জন্ম দেন।

গত ১ এপ্রিল শিশুকে নিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান অনিমা। স্ত্রীর কোনও হদিস না পেয়ে উধনা থানায় ডায়েরিও করেছিলেন স্বামী। কিন্তু গুজরাত থেকে নিখোঁজ হওয়া মা এবং শিশু কী ভাবে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে এসে পৌঁছোল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। শিশুটির মায়ের কোনও খোঁজ এখনও মেলেনি। ওই যুবকের দাবি, তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক ছিল বলে তাঁর জানা নেই। স্ত্রীর সঙ্গে ছিল মোবাইল। ফলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের কোনও উপায় নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

পলাশ জানিয়েছেন, উধনা থানা থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে রবিবার রাতেই কৃষ্ণনগরের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন তিনি। শিশুটিকে কে ফেলে রাখল,তা খুঁজছে পুলিশ। সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় পাচারচক্রের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কৃষ্ণনগরের ডেপুটি সুপার শিল্পী পাল বলেন, ‘‘সরকারি নিয়ম মেনে বর্তমানে শিশুটি সংশ্লিষ্ট দফতরের হেফাজতে রয়েছে। তার পরিচয় জানতে তদন্ত চলছে। আমাদের নজরে একটি ভিডিয়োবার্তা এসেছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন