সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কংগ্রেসের টিকিটে সাগরদিঘিতে তৃণমূলের প্রার্থীকে হারিয়েছিলেন। তার কয়েক মাস পরে সেই কংগ্রেস ছেড়েই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বাইরন বিশ্বাস। ২০২৬ সালে সেই সাগরদিঘিতেই তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করেছে। তাঁর হলফনামা বলছে, গত পাঁচ বছরে আয় বৃদ্ধি হয়েছে বিদায়ী বিধায়কের। তিনি জানিয়েছেন, সেই আয়ের উৎস ব্যবসা।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে মারা যান সাগরদিঘির বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুব্রত সাহা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাগরদিঘির উপনির্বাচন হয়। তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২২ হাজার ৯৮০ ভোটে হারিয়ে জয়ী হন বাইরন। কিন্তু ওই বছর জুন মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসংযোগ যাত্রা ঘাটাল পৌঁছোলে সেখানে গিয়ে তৃণমূলে যোগদান করেন বাইরন। ওই বছর ডিসেম্বর মাসে বাইরনের বাড়িতে আয়কর দফতর হানা দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।
সম্পত্তি ও অর্থ
হলফনামা অনুসারে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে বাইরনের আয় ছিল ৩৯ লক্ষ ৯২ হাজার ১৭০ টাকা। ২০২১-২২ সালে তা বেড়ে হয় ৫৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৮৭০ টাকা। ২০২২-২৩ সালে বাইরনের আয় বেড়ে হয় ৭৭ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৮০ টাকা। ২০২৩-২৪ সালে তাঁর আয় ছিল ৮৮ লক্ষ ৭১ হাজার ৮৬০ টাকা। ২০২৪-২৫ সালে তা একটু কমে হয়েছে ৮৬ লক্ষ ৬৯ হাজার ৫৫৯ টাকা। তাঁর স্ত্রী সুরিয়া বিশ্বাসের ২০২০-২১ সালে আয় ছিল ২৬ লক্ষ ৭১ হাজার ৯৪০ টাকা। ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৯১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬৯২ টাকা। বাইরন হলফনামায় জানিয়েছেন, তিনি পেশায় এক জন ব্যবসায়ী। সেটাই তাঁর আয়ের উৎস। পাশাপাশি, সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত তিনি। তাঁর স্ত্রীর আয়ের উৎসও ব্যবসা।
বাইরন হলফনামায় আরও জানিয়েছেন, তাঁর হাতে নগদ ৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৪৫৮ টাকা রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর হাতে রয়েছে নগদ ৮৫ হাজার টাকা। বাইরনের ব্যাঙ্কে স্থায়ী আমানত, বন্ড, বিনিয়োগ-সহ স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১১ কোটি ৭৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৯৯২ টাকা। তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৪ কোটি ৫০ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৯০ টাকা।
হলফনামা বলছে, বাইরনের নামে ২.৭৯৩ একর কৃষিজমি রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য ৬৬ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭৩৭ টাকা। তাঁর কাছে ৫ কোটি ৯১ লক্ষ ১১ হাজার ২৬০ টাকা মূল্যের বাস্তুজমি রয়েছে। তাঁর নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য ১৩ কোটি ৮২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৮৭ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য ২ কোটি ২৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৫৪৪ টাকা। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং সংস্থা থেকে মোট ৭ কোটি ৭৪ লক্ষ ২৯ হাজার ২৬১ টাকা ঋণ করেছেন বাইরন।
অপরাধের রেকর্ড
শমসেরগঞ্জ থানায় ২০২৩ সালে বাইরনের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর রুজু হয়েছিল। হলফনামা অনুসারে, জঙ্গিপুরের এসিজেএম (অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয়) আদালতে মামলা হয়। বেআইনি ভাবে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে চুরি করার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ওই মামলায় বাইরনের বিরুদ্ধে কোনও চার্জ গঠন হয়নি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
হলফনামায় বাইরন জানিয়েছেন, তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। ২০০৫ সালে রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে তিনি পাশ করেন।