WB Elections 2026

‘যাঁরা ভোটে লড়বেন তাঁদেরনাম উঠবে, কী হবে আমাদের!’

ফরাক্কার তিলডাঙার আটটি বুথের বেশ কয়েকটিতে সংযোজন ও বিয়োজন পরবর্তী তালিকা প্রকাশিত না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় গোটা গ্রাম।

বিমান হাজরা
শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৫৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহাতাব শেখ না হয় সুপ্রিম কোর্টে যেতে পেরেছিলেন, তাই দ্রুত তাঁর নাম উঠে গেল ভোটার তালিকায়। সোমবার মনোনয়নও জমা দিলেন তিনি মহকুমাশাসকের (জঙ্গিপুর) দফতরে। কিন্তু মাথায় হাত পড়েছে ফরাক্কার তিলডাঙার আরও ১৮৭ জন-সহ বহু মানুষের, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক আর অর্জুন অবশ্য বলেন, ‘‘যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁরা বিডিও, এসডিও এবং জেলাশাসকের দফতরে গেলে, তাঁদের আবেদন অনলাইনে তুলে দেওয়া হবে।’’

ভোটার তালিকা থেকে বাতিল হওয়া ভোটারদের ট্রাইবুনালে আবেদনের সময়সীমা ১৫ দিন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ফরাক্কার তিলডাঙার আটটি বুথের বেশ কয়েকটিতে সংযোজন ও বিয়োজন পরবর্তী তালিকা প্রকাশিত না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় গোটা গ্রাম।

মহাতাব শেখ যে ৩৪ নম্বর বুথের ভোটার, সে বুথেরই আশিক শেখের নাম বাদ গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখরে তৃণমূলের গোলাম রব্বানি, মালদহের রতুয়ায় কংগ্রেস প্রার্থী মোত্তাকিন আলম বা আমার পাশের বাড়ির মহাতাব শেখের নাম তো উঠবেই, তাঁরা রাজনীতির লোক। ভোটে লড়ছেন। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। আমাদের মতো সাধারণ লোকেদের কী হবে?’’

তিলডাঙারই ৪০ নম্বর বুথের সরিফ শেখ বলছেন, “স্বামী-স্ত্রী আগে সাত-আট বার ভোট দিয়েছি। সমস্যা হয়নি। বাড়িতে ভোটার কার্ড আছে, আধার কার্ড আছে। দু’দিন আগে জানলাম, আমার নাম আছে, কিন্তু স্ত্রী সালেখার নাম নেই। স্ত্রী বিড়ি বাঁধেন। আমি দিনমজুর। লেখাপড়া জানি না। কী করব, কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না! তাই এখনও আবেদন করতে পারিনি। কেউ কেউ বলছে বিডিও-র কাছে যেতে।”

ওই এলাকার এক বিএলও সুভাষচন্দ্র রায় বলছেন, “ঝাড়খণ্ড লাগোয়া বড় গ্রাম তিলডাঙা। নিরক্ষরতার হার বেশি। গ্রামেরই কিছু ছেলে গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা অনলাইনে আবেদন করে দিচ্ছেন। রাতদিন কাজ করেও সময় পাচ্ছেন না ওই ছেলেরা।” আর এক বিএলও সিদ্দিকা ইয়াসমিনের ৪০ নম্বর বুথে ভোটার ছিলেন ৮২৩ জন। বাতিল হয়েছে ১০৯ জনের নাম। সিদ্দিকা বলছেন, “এঁদেরও বাতিল হওয়ার কথা নয়। সবাই গ্রামের বাসিন্দা।’’

ফরাক্কার ১৩৬ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন মানিকনগর গ্রামের নাসিরুদ্দিন আনসারি। বাবা প্রয়াত সিরাজ হোসেন ছিলেন ফরাক্কা থানার হোমগার্ড। নাম কাটা গিয়েছে তাঁর। তিনি বলেন, “সামান্য মোবাইল মিস্ত্রি। কোর্টে যাওয়ার সামর্থ্য আমার কোথায়? ভোট নাকি এ বারে দিতে পারব না? শুধু ভয়, ভোটাধিকার হারানোর পরে দেশ থেকে তাড়ানো হবে না তো!”

আরও পড়ুন