—প্রতীকী চিত্র।
গাছ থেকে সজনে ডাঁটা পাড়াকে কেন্দ্র করে পরিবারিক বিবাদ। দাদাকে কাস্তে দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ ভাইয়ের বিরুদ্ধে, যার জেরে মৃত্যু হয় দাদার। রবিবার নদিয়া জেলার ভীমপুর থানার ভাতশালা এলাকার ঘটনা।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মণ্ডল পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই পৈত্রিক জমি ভাগাভাগি নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। একটি সজনে গাছ থেকে ডাঁটা পাড়াকে কেন্দ্র করে অর্জুনের সঙ্গে তাঁর বড় বৌদির বচসা বাধে। অভিযোগ, জমি বিবাদের কারণে বড় বৌদি তাঁকে ডাঁটা পাড়ার সময়ে বাধা দেন। সেই সময় বিষয়টি মৌখিক অশান্তিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, দুপুরে তা চরম রূপ নেয়।
রবিবার দুপুরে গ্রামের মাঠে গিয়েছিলেন দাদা রতন। কিছু ক্ষণ পরে অর্জুনও সেখানে পৌঁছোন। দুই ভাইয়ের মধ্যে পুরনো বিষয় নিয়ে ফের বচসা বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মাঠের মধ্যেই হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় রাগের মাথায় হাতের কাছে থাকা ঘাস কাটার কাস্তে দিয়ে মেজো ভাই অর্জুনকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করেন রতন। পেটে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত নিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অর্জুন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়েরা ও রতনের স্ত্রী ছুটে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় অর্জুনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাড়ি ও পরে কৃষ্ণনগর জেলা শক্তিনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অস্ত্রোপচারও হয়। তবে অপারেশন থিয়েটার থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তরের কিছু ক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রতন পলাতক। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ভীমপুর থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহও। জমিজমা সংক্রান্ত শরিকি বিবাদ নাকি এর পিছনে অন্য কোনও পুরনো শত্রুতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।