তাঁত শিল্প । নিজস্ব চিত্র।
সঙ্কটের মধ্যেই থাকা শান্তিপুরের তাঁত শিল্প এ বারের কেন্দ্রীয় বাজেটেও পুনরুজ্জীবনের কোনও স্পষ্ট দিশা পেল না—এমনই অভিযোগ তুললেন তাঁত শিল্পী ও তাঁত বস্ত্র ব্যবসায়ীদের একাংশ। বাজেটের তাঁত শিল্পের পুনরুজ্জীবনের দিশার প্রতিফলন দেখা যায়নি বলেই দাবি তাঁদের।
দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপুর ও ফুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প গভীর সঙ্কটে রয়েছে। বিপণনের সমস্যা তো ছিলই, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সুতো সহ বিভিন্ন কাঁচামালের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি। শান্তিপুর ও ফুলিয়া মিলিয়ে শান্তিপুর থানা এলাকার লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। রবিবার ঘোষিত কেন্দ্রীয় বাজেটে তাঁত শিল্পের অচলাবস্থা কাটানোর স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া যায়নি বলেই অভিযোগ।
শান্তিপুরের বাসিন্দা ও শান্তিপুর তাঁত বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তারক দাস বলেন, “কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিপণন সমস্যা এবং তাঁতিদের ঋণ সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে কোনও সুরাহা মিলবে ভেবেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাজেটে তাঁত শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে কোনও কথাই আমরা দেখলাম না। আমরা হতাশ।” ফুলিয়ার তাঁত বস্ত্র ব্যবসায়ী সুদীপ বসাক বলেন, “অনেক আশা নিয়ে বাজেটের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু সুতোর মূল্যবৃদ্ধি বা বিপণনের সমস্যা দূর করার বিষয়ে কোনও ঘোষণাই শোনা গেল না।” ফুলিয়া টাঙ্গাইল তন্তুজীবী উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদক স্বদেশ বসাক বলেন, “তাঁত শিল্পের উন্নয়ন বা পুনরুজ্জীবনের জন্য কেন্দ্র সরকার আদৌ কিছু ভাবছে না।”
অন্য দিকে, রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, “তাঁত শিল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্যই ভাবছে। বিপণন ও ঋণ সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প আগেই রয়েছে। বাজেটে কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়ন এবং বিপণন সমস্যার সমাধানের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। সেই প্রকল্পগুলির আওতায় তাঁত শিল্পও অন্তর্ভুক্ত।”