Krishnanagar Murder Case

খুনের পর কেন নীরব? ঈশিতা মামলায় দাদুর ‘অস্বাভাবিক’ আচরণ ঘিরে আদালতে সওয়াল অভিযুক্ত দেশরাজ সিংহের আইনজীবীর

আদালত সূত্রের খবর, সোমবার জেরা চলাকালীন শামসুল নিহত ছাত্রীর দাদুর কাছে জানতে চান, খুনের ঠিক পরেই তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল? জয়দেব জানান, তিনি নাতিকে নিয়ে স্কুটারে চেপে সরাসরি থানায় গিয়েছিলেন খবর দিতে। আর এই বয়ান ঘিরেই এ দিন তর্কের ঝড় ওঠে আদালত কক্ষে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০২

— প্রতীকী চিত্র।

নাতনিকে খুনের প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন দাদু। কিন্তু ঘটনার ঠিক পরবর্তী মুহূর্তগুলিতে তাঁর ভূমিকা এবং ‘অস্বাভাবিক’ নীরবতা নিয়েই এ বার রণকৌশল সাজাল অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী। সোমবার কৃষ্ণনগর আদালতে খুনের মামলার শুনানিতে নিহত ছাত্রী ঈশিতা মল্লিকের দাদু জয়দেব মল্লিককে একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নে বিদ্ধ করলেন আইনজীবী শামসুল ইসলাম মোল্লা। তাঁর মূল প্রশ্ন ছিল একটাই— নাতনিকে চোখের সামনে খুন হতে দেখেও কেন চিৎকার করলেন না দাদু? কেনই বা পরিজনদের না জানিয়ে সরাসরি থানায় ছুটলেন তিনি?

Advertisement

আদালত সূত্রের খবর, সোমবার জেরা চলাকালীন শামসুল নিহত ছাত্রীর দাদুর কাছে জানতে চান, খুনের ঠিক পরেই তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল? জয়দেব জানান, তিনি নাতিকে নিয়ে স্কুটারে চেপে সরাসরি থানায় গিয়েছিলেন খবর দিতে। আর এই বয়ান ঘিরেই এ দিন তর্কের ঝড় ওঠে আদালত কক্ষে। অভিযুক্তের আইনজীবীর সওয়াল, থানায় যাওয়ার পথে অসংখ্য প্রতিবেশীর বাড়ি, দোকান এবং নিজের ছেলের অফিস থাকা সত্ত্বেও কেন জয়দেব কাউকে কিছু না জানিয়ে গন্তব্য হিসাবে থানাকেই বেছে নিলেন? যদিও এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর জয়দেবের কাছ থেকে মেলেনি বলেই জানা গিয়েছে।

জেরার সময় জয়দেবের আচরণকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দেগে দিয়ে ওই আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার পর বাড়ি ফিরে এসে কেন তিনি কারও সঙ্গে কথা না বলে একা ঘরে গিয়ে বসে রইলেন? যেখানে বাড়ির সামনে ভিড় জমেছে, স্বজন হারানোর শোক চলছে, সেখানে এক প্রত্যক্ষদর্শীর এমন নির্লিপ্ত থাকাটা কি আদৌ স্বাভাবিক? এমনকি, সওয়াল চলাকালীন অভিযুক্তের আইনজীবী সরাসরি অভিযোগ করেন, “গোটা ঘটনাটি পুলিশের সাজানো একটি চিত্রনাট্য। দাদু আদৌ থানায় খবর দেননি, পরবর্তীতে পুলিশের পরামর্শ মেনে তিনি এই বয়ান দিচ্ছেন।” যদিও জয়দেব এই অভিযোগ দৃঢ় ভাবে অস্বীকার করেছেন ।

সোমবার দাদুর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন বিচারক। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কাঠগড়ায় উঠতে পারেন ঈশিতার ঠাকুমা আশালতা দেবী। অভিযুক্তের আইনজীবীর পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের নিশানায় তিনিও থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ অগস্ট কৃষ্ণনগর উইমেন্স কলেজ সংলগ্ন তাঁর নিজের বাড়িতে গুলি করে খুন করা হয় ঈশিতাকে। কৃষ্ণনগরের ছাত্রী খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আদতে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা দেশরাজ গুলি করে খুন করেন ওই কলেজছাত্রীকে। এর পর নেপাল সীমান্ত থেকে ওই যুবককে গ্রফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার হন তাঁর বাবা এবং মামাও। ওই দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে আশ্রয় এবং সাহায্যের অভিযোগ ওঠে। সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপে উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য।

Advertisement
আরও পড়ুন