(বাঁ দিকে) বহরমপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অধীর চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হল। শনিবার রাতে ভীষ্মদেবকে গ্রেফতার করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। রবিবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হবে।
বহরমপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ভীষ্মদেব। তিনি মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলার যুব তৃণমূল সভাপতি পদেও রয়েছেন। গত ৪ এপ্রিল রাজ্যে যখন বিধানসভা ভোটের প্রচার চলছে জোরকদমে, বহরমপুরেও কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে প্রচারে নেমেছিলেন অধীর। তাঁর মিছিলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কংগ্রেসের ওই মিছিলের পাশে অধীরের উদ্দেশে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। উঠেছিল ‘জয় বাংলা’ রবও। ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কংগ্রেস এবং তৃণমূল সমর্থকেরা হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেয়েছিল।
প্রচারে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন অধীর। অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে তাঁর প্রচারে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। ভীষ্মদেব নিজে অবশ্য এই ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেছিলেন,অধীর বাইরে থেকে দুষ্কৃতীদের নিয়ে এসে বহরমপুরে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাই তার প্রতিবাদ করেছেন। ভীষ্মদেবের গ্রেফতারির পর কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন। দাবি, সারা রাজ্যেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং নেতার উপর কোপ পড়ছে। সেই কারণে ভোটের প্রচারপর্বের গোলমালের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হচ্ছে সরকার গঠনের পর। তবে পুলিশ এই অভিযোগ মানতে চায়নি। পুলিশ সূত্রে দাবি, ৪ এপ্রিলের ঘটনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তার ভিত্তিতে নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
বহরমপুরের পাঁচ বারের সাংসদ অধীর গত লোকসভা ভোটে হেরে গিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী তথা ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পঠানের কাছে। তার পর ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁকে ওই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল কংগ্রেস। তাতেও তিনি পরাস্ত হয়েছেন। এ বার অধীরের কেন্দ্রে জিতেছেন বিজেপির সুব্রত মৈত্র।