লক্ষ্মীর ভাঁড় হাতে প্রচারে ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। —নিজস্ব ছবি।
দুই হাতে দু’টি লক্ষ্মীর ভাঁড়। মাটির দু’টি ভাঁড়ের একটির গায়ে লেখা, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’। তার নীচে লেখা ‘১৫০০’। অন্য ভাঁড়ে লেখা, ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’। তলায় লেখা, ‘৩০০০’। সোমবার এ ভাবেই দুয়ারে দুয়ারে প্রচার করতে গেলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট। ভোটের মুখে জনসংযোগে বেরিয়ে বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে তাঁরা ক্ষমতায় এলে তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার যেমন থাকবে, তেমনই কেন্দ্রের অন্নপূর্ণা ভান্ডারের সুবিধাও যুক্ত হবে। যা দেখে তৃণমূলের খোঁচা, এত দিন ‘ভাতা-ভাতা’ বলে পশ্চিমবাংলার মহিলাদের অপমান করে ভোটের আগে রাজ্যের প্রকল্প নিয়েই প্রচার করতে হচ্ছে বিজেপিকে।
বস্তুত, কয়েক সপ্তাহ আগে ঘাটালের একটি জনসভা থেকে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্ত। তাঁর নিদান ছিল, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ নিয়ে তৃণমূলকে ভোট দিতে যাওয়ার আগে স্ত্রীকে ঘরবন্দি করুন গৃহকর্তারা। পরে অবশ্য ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান তিনি। সোমবার সেই ঘাটাল বিধানসভার বিজেপি বিধায়কই বেরিয়েছিলেন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর প্রচারে। তাঁর বার্তা, ‘‘ভয় পাবেন না! বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডার তো থাকবেই। সঙ্গে যোগ হবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারও।’’ সকাল সকাল নিজের বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরেছেন শীতল। গৃহস্থের উঠোনে গিয়ে গৃহকর্ত্রীদের বোঝান, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের দেড় হাজার টাকা তো থাকবেই। তার সঙ্গে বিজেপি সরকারের আরও তিন হাজার টাকা যুক্ত হবে। অর্থাৎ, মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা সহায়তা পাওয়া যাবে।
কিন্তু বিজেপি বিধায়কের ভোটপ্রচারে কেন তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডারের কথা? শীতলের জবাব, ‘‘বর্তমানে যতগুলি প্রকল্প আছে, সে সব আমরা ক্ষমতায় এলেও থাকবে। লক্ষ্মীর ভান্ডার থাকবে। ১৫০০ টাকার সঙ্গে ৩০০০ টাকাও পাবেন মহিলারা।’’ তাঁর প্রতিশ্রুতি, পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের সরকার তৈরি হলে শপথ নেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ৩ হাজার টাকা পাবেন মহিলারা।
শীতলকে খোঁচা দিয়ে তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজিত মাইতির মন্তব্য, ‘‘একেই বলে, ‘ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না!’ তাই বিজেপি বিধায়ককেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভান্ডারের জয়গান গাইতে হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৃণমূলকে তো আর সরকারি প্রকল্পের প্রচার করতে হবে না। বিরোধীরাই করে দেবে। সে যা-ই হোক, শীতলবাবু এ বার রেকর্ড ভোটে হারার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’’