—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
এক দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল। অন্যদিকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল— ২১ জুলাইয়ের আগে দলের এই বিভাজনের মাঝে পড়ে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীরা।
এই জেলার সব পুরসভা, অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূলের দখলে। জেলা পরিষদও তৃণমূলের দখলে। জেলায় এ বারের বিধানসভাতেও সব থেকে বেশি আসন পেয়েছে তৃণমূল। কিন্তু সরকার বদলের পরে তৃণমূলের এমন শক্তিশালী জেলাতেও তৃণমূল অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। একের পর এক পুরপ্রধান ইস্তফা দিচ্ছেন, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থা আসছে। এই পরিস্থিতিতে কে কী করবে সে বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে বলার কেউ নেই। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলে এমনই ডামাডোল তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের এত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কোন পথে চলবেন তা নিয়ে কার্যত তাঁরা দিশেহারা।
মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের তৃণমূলের এক কর্মাধ্যক্ষ বলছেন, ‘‘দলের দেখার মতো কেউ নেই। আমরা কী করব, কী করব না, তা বলার মতো নেতা নেই। অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছি। ফলে নিজেদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন।’’ এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
তবে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের নেতা তথা জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল (মধু) বলছেন, ‘‘দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের অভিভাবক। ফলে অভিভাবকহীন বলার কোনও অবকাশ নেই। আমরা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’’
মুর্শিদাবাদের তৃণমূলের তিন জন সাংসদ আগেই দলনেত্রীকে ছেড়ে বিদ্রোহী ব্লকে ভিড়েছেন। দলের এই জেলার ৯ জন বিধায়কের মধ্যে জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলী ছাড়া বাকি সকলেই বিদ্রোহী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তার পরে এই জেলার সদ্য অপসারিত তৃণমূলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার থেকে শুরু করে বেলডাঙার প্রাক্তন বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ, জেলা পরিষদ সদস্য রাজিব হোসেন, নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বিদ্রোহী ব্লকে।