— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
হাসপাতালের পিছনের বাগানে পড়ে রয়েছে মহিলার অর্ধনগ্ন, রক্তাক্ত দেহ। পাশেই পড়ে রয়েছে তিন বছরের শিশুপুত্র। বেশ জখম সে-ও। সেই অবস্থাতেই একটানা কেঁদে চলেছে শিশুটি। বৃহস্পতিবার সকালে এমনই চিত্র দেখা গেল মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তড়িঘড়ি ওই শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কী ভাবে ওই মহিলার মৃত্যু হল, জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে শমসেরগঞ্জ থানার অন্তর্গত তারাপুর হাসপাতালের পিছনের বাগানে ওই মহিলার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মৃতার পোশাক অবিন্যস্ত ছিল। সারা শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন। দেহের ঠিক পাশেই পড়েছিল তিন বছরের এক শিশু। আতঙ্কে একটানা কাঁদছিল সে। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়েরা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় শমসেরগঞ্জ থানার পুলিশ। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য দিকে, জখম শিশুটিকে উদ্ধার করে ভর্তি করানো হয় অনুপনগর ব্লক হাসপাতালে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ওই মহিলার পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। তিনি এলাকার বাসিন্দা, নাকি বাইরে থেকে তাঁকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল, সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে ধর্ষণ করে খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু জানায়নি জেলা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মামিনুল ইসলামের কথায়, ‘‘হাসপাতালের পিছনের এই বাগানটি বেশ নির্জন। সকালে বাগানের দিকে যেতেই দেখি, রক্তাক্ত অবস্থায় এক মহিলা পড়ে আছেন। বাচ্চাটা পাশে জখম অবস্থায় ছটফট করছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরাই পুলিশে খবর দিই।’’ পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। সংলগ্ন থানাগুলিকেও ছবি পাঠানো হয়েছে।