নওশাদ সিদ্দিকী। —ফাইল চিত্র।
বিধানসভা ভোট এগিয়ে আসছে। নির্বাচন কমিশন যে কোনও দিন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেবে। সেই কথা মাথায় রেখে নিজেদের মতো করে ঘুঁটি সাজানো শুরু করেছে সব রাজনৈতিক দল। সেই পর্যায়ে দলের জন্য স্থায়ী প্রতীক চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)। স্থায়ী প্রতীক পেতে মঙ্গলবার দোলের দিন নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন দলের একমাত্র বিধায়ক তথা সংগঠনের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী।
২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে আইএসএফ। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী এই দল প্রতিষ্ঠা করলেও, আগাগোড়া নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন তাঁর ছোটভাই নওশাদ। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সঙ্গে সংযুক্ত মোর্চার ছাতার তলায় লড়াই করে ভাঙড় আসন থেকে একমাত্র জয় পান তিনিই। এ বার সেই নওশাদই দলের স্থায়ী প্রতীকের জন্য আবেদন করলেন। নির্বাচনের ঠিক দোরগোড়ায় নতুন দল ঘোষণা করেছিলেন আব্বাস। এত অল্প সময়ে নির্বাচন কমিশন থেকে কোনও প্রতীক পাননি। তাই বাধ্য হয়ে বিহারের রাষ্ট্রীয় সেকুলার মজলিস পার্টির খাম চিহ্ন নিয়ে বাংলার ময়দানে নেমেছিল আইএসএফ। পঞ্চায়েত এবং লোকসভা ভোটেও এই খাম প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল আইএসএফ।
এ বারের নির্বাচনে বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করে বিধানসভা ভোটে লড়বে আইএসএফ। আসন সমঝোতা নিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন নওশাদ। সেই আবহেই নির্বাচন দলের স্থায়ী প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি। কোনও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলকে স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীক পেতে হলে নির্দিষ্ট কিছু আইনি ও সাংগঠনিক শর্ত পূরণ করতে হয়। এই স্বীকৃতি দেয় ভারতের নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, দলকে আগে ‘স্বীকৃত রাজ্য দল’ হিসাবে মান্যতা অর্জন করতে হয়। তার পরেই নির্দিষ্ট একটি প্রতীক স্থায়ী ভাবে সংরক্ষিত করা যায়।
স্থায়ী প্রতীক পেতে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার ও আসন সংখ্যার উপরেই তা নির্ভর করে। যে কোনও রাজ্যে বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে দলকে, মোট বৈধ ভোটের অন্তত ছ’শতাংশ পেতে হবে এবং সেই রাজ্যের বিধানসভায় কমপক্ষে ২টি আসন জিততে হবে। অথবা রাজ্যের মোট বিধানসভা আসনের ৩% (অথবা ন্যূনতম ৩টি আসন) জিততে হবে। এই শর্তগুলির যে কোনও একটি পূরণ করলেই দলটি ‘স্বীকৃত রাজ্য দল’-এর মর্যাদা পেতে পারে।
সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সংগঠন ও কার্যকলাপ করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে। দলের সংবিধান, গঠনতন্ত্র, কার্যকরী কমিটি ও নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যকলাপ থাকতে হবে। আর্থিক লেনদেন ও চাঁদার হিসাব নিয়মমাফিক নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রমাণ দিতে হবে নির্বাচন কমিশনে। দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন, পদাধিকারীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সদস্যপদ নথিভুক্তিকরণে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। এ ছাড়াও নির্বাচনী বিধি মেনে চলার অঙ্গীকার করতে হবে। যেমন নির্বাচনী ব্যয়, প্রার্থীপদ, হলফনামা ও অন্যান্য নির্দেশিকা কঠোর ভাবে মানতে হবে। নিয়মভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি বাতিলও হতে পারে।
স্থায়ী প্রতীক পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যে সেই প্রতীক কেবল ওই দলই ব্যবহার করতে পারে। এতে ভোটারদের কাছে দলকে চেনা সহজ হয় এবং নির্বাচনী প্রচারে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। অন্য দিকে, স্বীকৃতি না থাকলে দলকে প্রতি নির্বাচনে ‘মুক্ত প্রতীক’ নিতে হয়, যা পরিবর্তিত হতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী প্রতীক পাওয়া মানে কেবল একটি চিহ্ন নয়— বরং তা একটি রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতার সরকারি স্বীকৃতি। তাই বিধানসভা ভোটের আগে আইএসএফ স্থায়ী স্বীকৃতি পেতে মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে।