—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
অফলাইনে পূরণ করা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম অনলাইনে আপলোডই হয়নি! এমন অভিযোগে শোরগোল জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পুরসভায়। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই পুরসভা ৩২ জন কর্মীকে শো-কজ় করেছিল। শনিবার মহকুমাশাসকের দফতরে হাজির হয়ে তাঁরা কারণ দর্শালেন।
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ‘সঠিক ভাবে’ পূরণ করেও টাকা না-পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। বিশেষত, অফলাইনে যাঁরা ফর্ম পূরণ করেছেন, তাঁদের থেকেই অভিযোগ জমা পড়ছে বেশি। ধূপগুড়ি পুরসভা এলাকার বাসিন্দা অনেক মহিলারই অভিযোগ, ফর্ম পূরণের সময় তাঁরা নির্দিষ্ট সব নথি জমা করেছিলেন। কিন্তু অনলাইনে সেই ফর্মগুলি আপলোড এবং যাচাই না-হওয়ায় তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকেনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার ধূপগুড়ি পুরসভার ৩২ জন কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করেন মহকুমাশাসক।
শো কজ় নোটিস পাওয়া এক কর্মীদের দাবি, তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তা সত্ত্বেও কেন তাঁদের শো-কজ় করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা অবগত নন। ধূপগুড়ি পুরসভার স্থায়ী কর্মী তন্ময় নন্দী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘শো-কজ় নোটিসের জবাবে আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি, সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি। আমাদের কাজে কোনও গাফিলতি ছিল না।’’ আর এক কর্মী অভয়চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘‘আমাদের কাজ ছিল আবেদনপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথি সঠিক ভাবে গ্রহণ করা। সেই কাজ আমরা করেছি। পরবর্তী ধাপে আবেদনপত্র অনলাইনে আপলোড করার দায়িত্ব ছিল মহকুমাশাসকের দফতরের। সেটি কেন হয়নি বা কোথায় সমস্যা হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।’’ যদিও এই বিষয়ে মহকুমাশাসকের প্রতিক্রিয়া জানতে তাঁকে একাধিক বার ফোন করা হলেও উত্তর মেলেনি।
সরকারি কর্মীদের গাফিলতি অভিযোগই তুলছেন ধূপগুড়ির বিধায়ক নরেশ রায়। তিনি বলেন, ‘‘সরকারি কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ধূপগুড়ির অনেক মহিলা। কর্তব্যে যাঁরা গাফিলতি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’