Special Intensive Revision

এসআইআর তালিকায় নাম বিবেচনাধীন, কোচবিহারে সেই আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের, দাবি

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামিনুর-সহ তাঁর পাঁচ ভাই বোনের এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও, তাঁর বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই খবর পেয়েই গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন সামিনুর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ০৪:১৪

—প্রতীকী চিত্র।

এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নামের উপর লেখা ‘বিবেচনাধীন’। দাবি, সেই আতঙ্কে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক ব্যক্তি। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত মধুপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছু দিন ধরেই এসআইআর সংক্রান্ত মানসিক চাপে ভুগছিলেন সামিনুর মিয়া নামে এক ব্যক্তি। বুধবার বিকেলে বাড়িতেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যেরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

Advertisement

এ দিকে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামিনুর-সহ তাঁর পাঁচ ভাই বোনের এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও, তাঁর বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। এই খবর পেয়েই গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন সামিনুর। জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন তাঁকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’র নোটিস দেয়। সেই মতো হাজিরাও দেন সামিনুর। তার পরেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের পাশে বিবেচনাধীন উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগ। আর এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি শুভঙ্কর দে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এ নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে যে ভাবে হেনস্থা করছে, তাতে একের পর এক বাংলার মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।”

নূরের দাদা নজরুল ইসলামের অভিযোগ, “গত ২৮ তারিখে তালিকা প্রকাশের পরে ভাই জানতে পারে তার নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে। তার পর থেকেই চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। আমি বলেছিলাম চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আজ ভাইয়ের এই পরিণামের জন্য একমাত্র নির্বাচন কমিশন দায়ী।”

এ বিষয়ে বিজেপির জেলার সহ-সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ভাবে নির্বাচন কমিশন দ্বারা পরিচালিত। জেলাতে দু’লক্ষেরও বেশি বিচারাধীন ব্যক্তির নাম রয়েছে। তৃণমূল সাধারণ মানুষদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যে কারণে তাঁরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।”

Advertisement
আরও পড়ুন