Malda Murder Case

বাবা, মা, বোন ও ঠাকুমাকে খুন! চার বছর পর অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা শোনাল মালদহের আদালত

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির সকলকে খেতে দিয়েছিলেন। সেই পানীয় খেয়ে সকলে জ্ঞান হারালে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৫ ২২:৩৭
After four years, court sentences accused to death in Malda case

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

একই পরিবারের চার জনকে খুনের ঘটনায় রায় ঘোষণা। বাবা, মা, বোন এবং ঠাকুমাকে খুনের অভিযোগে বাড়ির ছোট ছেলেকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা শোনাল মালদহ জেলা আদালত।

Advertisement

খুনের ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। কালিয়াচক থানার ১৬ মাইল এলাকার একই পরিবারের চার জন খুন হন। অভিযোগের তির ছিল বাড়ির ছোট ছেলে মহম্মদ আশিফের দিকে। দাদা আরিফের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে হাড়হিম করা ঘটনার কথা। আশিফের জবানবন্দির ভিত্তিতেই পুলিশ বাড়ির গুদামের মাটি খুঁড়ে চারটি দেহ উদ্ধার করে। তল্লাশিতে আশিফের ঘর থেকে উদ্ধার হয় অনেক আগ্নেয়াস্ত্রও।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, আশিফ পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাড়ির সকলকে খেতে দিয়েছিলেন। সেই পানীয় খেয়ে জ্ঞান হারান তাঁর বাবা জাওয়াজ আলি, মা ইরা বিবি, বোন রিমা খাতুন, ঠাকুমা আলেকনুর বেওয়া এবং দাদা। যদিও কিছুক্ষণ পরেই জ্ঞান ফিরে আসে আরিফের। তখন ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শেষে কোনওক্রমে বাড়ি থেকে পালি যান আরিফ।

আরিফ বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতেই বাড়ি বাকিদের অচৈতন্য অবস্থাতেই শ্বাসরোধ করে খুন করেন আশিফ। তার পর দেহগুলিকে নিয়ে গিয়ে নিজেদের বাড়ির নীচের গুদাম ঘরে পুঁতে দেন। তার পর সেখানে বালি-সিমেন্ট দিয়ে কংক্রিটের মেঝেও তৈরি করেন আশিফ। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। আরিফের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করেন আশিফ। পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই কাণ্ড। শনিবার মালদহ জেলা আদালতের জেলা মুখ্য দায়রা বিচারক শুভায়ু বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযুক্তকে ফাঁসির সাজা শোনালেন।

Advertisement
আরও পড়ুন