(বাঁ দিকে) দিলীপ সাহা। (ডান দিকে) রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। —নিজস্ব চিত্র।
জল্পনাই সত্যি হল। কোচবিহার পুরসভার নয়া চেয়ারম্যান হলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিলীপ সাহা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রবীন্দ্রনাথ চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার পরেই দিলীপের নাম নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। বুধবার সেই জল্পনাতেই পড়ল সিলমোহর।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ। মাস কয়েক আগে তাঁকে ইস্তফার নির্দেশ দেওয়া হলেও মানেননি তিনি। গত ৫ জানুয়ারি রবীন্দ্রনাথের কাছে ফোন যায় অভিষেকের। তার অব্যবহিত পর ইস্তফা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ জানান, শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি এখন শুধু সংগঠনের কাজে মন দেবেন। মহাকুমাশাসকের কাছে গিয়ে তিনি ইস্তফাপত্র দিয়ে দেন। তার পর বোর্ড অফ কাউন্সিলিং পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে এবং দিন সাতেকের জন্য কোচবিহার পুরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন আমিনা আহমেদ।
বুধবার কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যানের ঘরেই একটি বোর্ড মিটিং হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলা তৃণমূলের সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক, আমিনা-সহ পুরসভার কুড়িটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দিলীপ বলেন, ‘‘মা-মাটি সরকারের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। জেলা তৃণমূলের সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিককেও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমাদের দল সাধারণ মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা আমি পূরণ করতে পারব বলে আশাবাদী।’’
কোচবিহার পুরসভার কুড়িটি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রথম ঘাসফুল ফুটিয়েছিলেন দিলীপই। ১৯৮৫ সালের ছাত্র পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসা দিলীপ একসময় কংগ্রেস করতেন। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিনই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। রবীন্দ্রনাথের হাত থেকেই তৃণমূলের পতাকা তুলে নিয়েছিলেন। ২০০৫ সাল থেকে পর পর তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে কাউন্সিলর হয়েছেন। বর্তমানে তৃণমূলের শহর ব্লক সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন দিলীপ।