SIR related Death Allegation

‘এসআইআর-আতঙ্কে’ হৃদ্‌রোগে মৃত আরও ৩! শুনানি চলাকালীন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নোটিস পাওয়া সেই বিডিও

রাজ্যের আরও তিন বাসিন্দার মৃত্যুর কারণ হিসাবে এসআইআরকে দায়ী করল পরিবার এবং শাসকদল। অন্য দিকে, শুনানি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক এইআরও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৩

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

এসআইআর শুনানিতে ডাক পাওয়ার পরে মারা গেলেন জলপাইগুড়ির এক বৃদ্ধ। বুধবার একই দিনে মৃত্যুর খবর মিলেছে উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়াতেও। অন্য দিকে, ঝাড়গ্রামের যে এইআরও (সহকারি নির্বাচনী রিটার্নিং অফিসার) এসআইআরের শুনানিতে হাজিরার নোটিস পেয়েছিলেন, তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালে।

Advertisement

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গোড়ালবাড়ি অঞ্চলের উত্তর প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মকবুল হকের বয়স ৬০ বছর। ১৭/১৭৪ পার্টের ওই ভোটারের পরিবার সূত্রে খবর, দু’দিন আগে তাঁর বাড়িতে এসআইআর শুনানির নোটিস যায়। সেটি হাতে পাওয়ার পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধ। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে শুনানিতে ডাকা হল, এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন মকবুল। দ্রুত তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআরের কারণেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। মৃতের পুত্র আনারুল হক বলেন, ‘‘২৮ জানুয়ারি শুনানি ছিল। কিন্তু কাগজ (নোটিস) আসার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিল বাবা। অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিল। শুনানি সংক্রান্ত ভয়ে প্রাণ হারাল বাবা।’’

উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়াতেও একই অভিযোগ। সেখানে সাহার আলি মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। সাহারের পরিবারের পাঁচ সদস্য এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এসআইআরের শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর থেকে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। যদিও এই মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মণ্ডলের দাবি, এই মৃত্যুমিছিল বন্ধ করতে অবিলম্বে এসআইআরের কাজ বন্ধ রাখা হোক। মানুষকে হয়রান করছে নির্বাচন কমিশন। বিজেপির দাবি, অসুস্থ হয়ে কেউ মারা গেলে কিংবা পারিবারিক কারণে আত্মহত্যা করলেও কারণ হিসাবে এসআইআর জুড়ে দিচ্ছে রাজ্যের শাসকদল। বুধবার পুরুলিয়ার সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এসআইআরের কারণে।

মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে মারা গিয়েছেন ৭৬ বছরের হাসিনা বিবি। তাঁর ছেলের শুনানির নোটিস এসেছে। পরিবারের দাবি, নাগরিকত্ব হারানোর দুশ্চিন্তায় বুধবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন বৃদ্ধা। ডোমকল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই বৃদ্ধা। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, তীব্র মানসিক চাপের কারণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার এসআইআরের শুনানি কাজে ব্যস্ত ছিলেন ঝাড়গ্রামের বিনপুর-২ ব্লকের বেলপাহাড়ির বিডিও সুমন ঘোষ। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ তিনি কাজ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাথাব্যথা এবং বমির উপসর্গ দেখা দেয় তাঁর। ওই এইআরও-কে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বেলপাহাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসিজি, সিটিস্ক্যান ইত্যাদি করা হয়। বর্তমানে সিসিসিইউ-তে রয়েছেন ওই বিডিও। তাঁকে দেখতে ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর, মহকুমাশাসক অনিন্দিতা রায় চৌধুরী-সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা হাসপাতালে যান।

জানা যাচ্ছে, দিন কয়েক দিন আগেও এসআইআরের শুনানি চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সুমন। তা ছাড়া তিনি নিজেও এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। দু’দিন আগে শারীরিক সমস্যা নিয়ে বেলপাহাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল ওই বিডিওকে।

Advertisement
আরও পড়ুন