BLO's Death In West Bengal

১৩০০ ভোটারের ৮৫০ বিবেচনাধীন, ‘এসআইআরের কাজের চাপে’ বিএলও-র মৃত্যু! পরিবার দায়ী করল কমিশনকে

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকের চাকরি থেকে অবসর নেন আবুল বরকত। ইদের ছুটির পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার কথা ভেবেছিলেন। শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে ওই বিএলও-র।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ১৬:১৬
Abul Barkat, BLO Dies

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন আবুল বরকত। —নিজস্ব ছবি।

রাজ্যের আরও এক বিএলও-র মৃত্যু! পরিবারের অভিযোগ, এসআইআরের কাজের চাপে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবুল বরকত।

Advertisement

আবুলের বাড়ি মালদহের কালিয়াচকের সুজাপুরে। সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বামনগ্রাম–মসিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫৩ নম্বর বুথের বিএলও হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন ধরে নয় মৌজা সুবহানিয়া হাই মাদ্রাসার শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন আবুল। পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোর প্রায় সাড়ে ৫টা নাগাদ হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন আবুল। মালদহ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মাসখানেক আগে ওই সুজাপুরেই কালিয়াচক হাই স্কুলের শিক্ষক আনিকুল আলম তথা বিএলও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকার ফলে চাপ বাড়ছে বিএলও-দের উপর। আবুল যে বুথের বিএলও ছিলেন, সেখানে ভোটার সংখ্যা কমবেশি ১৩০০। তার মধ্যে ৮৫০ জনের নামই চূড়ান্ত তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’। ওই নিয়ে ভোটারদের চাপের মুখে পড়েন বিএলও।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকের চাকরি থেকে অবসর নেন আবুল। ইদের ছুটির পর তাঁর আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করার কথা ভেবেছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজের সামনে কান্নাভেজা চোখে বিএলও-র পুত্র হাসিব আখতার বলেন, ‘‘বাবা খুব টেনশনে ছিলেন। এসআইআর-এর কাজটার অনেক চাপ ছিল। বিডিও অফিসে নথি জমা দেওয়া ছিল। এখন রমজানের সময়। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে কাগজ নিয়ে অনেকে হাজির হচ্ছেন। অনেকের নাম নেই। তাঁদের অত্যাচার... গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছিলেন বাবা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা পর্যন্ত কাজ করতে দেখেছি। উনি কী কাজ করছেন, সেটা তো আমজনতা দেখছেন না। প্রচণ্ড চাপে লোকটা চলে গেলেন। দায়ী কাকে করব? সরকার আর কমিশনই একটার পর একটার ঘটনার জন্য দায়ী।’’

বিএলও-র মৃত্যু এবং পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। শাসকদল তৃণমূল ওই বিএলও-র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা কমিশন এবং মোদী সরকারকে এই মৃত্যুর জন্য কাঠগড়ায় তুলেছে।

Advertisement
আরও পড়ুন