দিনহাটায় ডোবা থেকে উদ্ধার ছ’মাসের শিশুর দেহ। —নিজস্ব চিত্র।
রাতে মায়ের কাছে ঘুমিয়ে ছিল ছ’মাসের শিশু। ঘুম থেকে মা উঠে দেখলেন মেয়ে বিছানায় নেই। খোঁজ-খোঁজ। শেষমেশ দুপুরে বাড়ির পাশে ডোবা থেকে উদ্ধার হল শিশুর দেহ। শুক্রবার ওই নিয়ে উত্তেজনা কোচবিহারের দিনহাটা-১ ব্লকের ওকরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। তদন্তে নেমে পরিবারেরই এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে ওকরাবাড়ির বাসিন্দা সাদ্দাম হকের স্ত্রী স্মিতা পরভিন ছ’মাসের কন্যাকে নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন। একই ঘরে শুয়ে ছিলেন শিশুর কাকিমা রেখা খাতুন এবং পিসি আহিমা খাতুন। স্মিতার দাবি, রাতে শিশুকে ঘুম পাড়িয়ে তিনি ঘুমোচ্ছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন মেয়ে পাশে নেই! ঘরের দরজা-জানালা খোলা দেখেন তিনি।
বাড়ির সবাইকে ডাকাডাকি করেন স্মিতা। বাচ্চাটির খোঁজে বাড়ির আশপাশ থেকে অদূরে জলাশয়ে তল্লাশি চলে। দীর্ঘ ক্ষণ বাদে বাড়ি থেকে খানিক দূরে একটি ডোবা থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পরভিন বলেন, ‘‘রাতে দেওরের স্ত্রী আর ননদের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমোচ্ছিলাম। রাত ১২টা নাগাদ মেয়েকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিই। সকালে উঠে দেখি ও নেই।’’ শিশুর কাকিমা রেখা খাতুনের দাবি, রাতে তিনি শৌচাগারে গিয়েছিলেন। তার পর ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়়েন। দরজা বন্ধ করেছিলাম। কিন্তু সকালে দেখলাম দরজা খোলা। কিন্তু একই ঘরে তিন মহিলা থাকা সত্ত্বেও ছ’মাসের শিশু কী ভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিবাদ ছিল। শিশুর মৃত্যুর কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রেখাকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়েরা বিক্ষোভ শুরু করেন। ঘটনাস্থলে যান দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক প্রশান্ত দেবনাথ, দিনহাটা থানার আইসি-সহ পুলিশ আধিকারিকেরা। দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘‘দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিবারেরই এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’’